বিবিসি বাংলা

গত এক সপ্তাহে বাংলাদেশে বেশ কয়েকবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে টানা কয়েকদিনের মধ্যে কম্পন অনুভূত হওয়ায় জনগণের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ভূকম্পবিদদের মতে, এ ধরনের বারবার ভূমিকম্প আঞ্চলিক টেকটনিক প্লেটগুলোর সক্রিয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বঙ্গোপসাগরে চার মাত্রার ভূমিকম্প
২৬ নভেম্বর, বুধবার রাতে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে ৪.০ মাত্রার একটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। এই কম্পন উপকূলীয় অঞ্চলের কিছু অংশে অনুভূত হলেও বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ভূকম্পন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বঙ্গোপসাগর এলাকায় ছোট ছোট কম্পনগুলো প্লেটের স্বাভাবিক গতিবিধির অংশ হলেও এগুলো আঞ্চলিক চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবেও বিবেচিত হয়। সাধারণ সুনামির ঢেউ কয়েক ফুট উঁচু হয়, কিন্তু ‘মেগা সুনামি’ শত শত ফুট পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। হঠাৎ ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, হিমবাহ ধসে পড়া কিংবা মহাজাগতিক উল্কাপিণ্ডের আঘাতে এ ধরনের সুনামি সৃষ্টি হতে পারে। এর তীব্র শক্তি ও বিশাল ঢেউ গভীরভাবে স্থলভাগে প্রবেশ করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম।
ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী কম্পন
এর এক দিন পর, ২৭ নভেম্বর, দূর ইন্দোনেশিয়ায় ৬.৬ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে হওয়া এ ভূমিকম্পটি সুনামি সতর্কতার সম্ভাবনা তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত বড় কোনো সুনামির খবর পাওয়া যায়নি।
সাধারণ সুনামির ঢেউ কয়েক ফুট উঁচু হয়, কিন্তু ‘মেগা সুনামি’ শত শত ফুট পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। হঠাৎ ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, হিমবাহ ধসে পড়া কিংবা মহাজাগতিক উল্কাপিণ্ডের আঘাতে এ ধরনের সুনামি সৃষ্টি হতে পারে। এর তীব্র শক্তি ও বিশাল ঢেউ গভীরভাবে স্থলভাগে প্রবেশ করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম।
বাংলাদেশে সুনামি ঝুঁকি: বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
বাংলাদেশ সরাসরি কোনো বড় সক্রিয় ফল্ট লাইনের ওপর না থাকলেও ইন্দোনেশিয়া অথবা আন্দামান–নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের দিকে শক্তিশালী ভূমিকম্প হলে এর ঢেউ বঙ্গোপসাগরের দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে বাংলাদেশেও সুনামির ঝুঁকি থেকে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগরের ভৌগোলিক অবস্থান এবং তলদেশের অবনমন কাঠামো এমন যে শক্তিশালী দূরবর্তী ভূমিকম্পও এখানে সুনামির ঢেউ তৈরি করতে পারে। তারা বলেন—
“আন্দামান অঞ্চলে ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হলে বাংলাদেশ উপকূলে সুনামির প্রভাব পৌঁছানো খুব অসম্ভব নয়।”
২০০৪ সালের ভয়াবহ সুনামি: এখনও সতর্কতার উদাহরণ
২০০৪ সালে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা অঞ্চলজুড়ে ৯.১ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে যে সুনামি তৈরি হয়েছিল, তাতে দুই লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে। সেই সুনামির ঢেউ বাংলাদেশেও পৌঁছেছিল। তাতে কমপক্ষে দুইজন মানুষের মৃত্যুর ঘটনাও নথিভুক্ত রয়েছে।
যদিও বাংলাদেশ উপকূলীয় ঢেউয়ের আঘাতে বড় ক্ষতি থেকে বেঁচে যায়, তবে সেই ঘটনার পর থেকেই বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে আসছেন—
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বড় কোনো সুনামি হলে বাংলাদেশের উপকূলও ঝুঁকির বাইরে নয়।
প্রস্তুতি ও করণীয়
ভূমিকম্প ও সুনামি বিষয়ে গবেষকরা মনে করেন—
-
উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা জরুরি
-
স্থানীয় জনগণকে নিরাপদ আশ্রয় ও দ্রুত সরে যাওয়ার প্রশিক্ষণ দিতে হবে
-
বাংলাদেশকে আঞ্চলিক সুনামি সতর্কতা সহযোগিতা ব্যবস্থায় আরও সক্রিয় হতে হবে
সাম্প্রতিক বারবার ভূমিকম্পের ঘটনাগুলো এ অঞ্চলের ভূ–টেকটনিক অস্থিতিশীলতা তুলে ধরছে। ছোট ভূমিকম্প সরাসরি বিপদের কারণ না হলেও ইন্দোনেশিয়া বা আন্দামান অঞ্চলে বড় ভূমিকম্প হলে বাংলাদেশেও সুনামির ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে—যেমনটি দেখা গিয়েছিল ২০০৪ সালের সুনামিতে। ফলে সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং কার্যকর জরুরি প্রস্তুতির ওপরই জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।


