অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও বেড়েছে মুরগির দাম। একই সঙ্গে শীতকাল চললেও আশানুরূপভাবে কমেনি সবজির দাম। হাতেগোনা কয়েকটি সবজির দামে সামান্য ওঠানামা দেখা গেলেও অধিকাংশ সবজি বিক্রি হচ্ছে আগের উচ্চ দামেই।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর ইসিবি চত্বর, মিরপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় মুরগির দামে ঊর্ধ্বগতি থাকলেও সবজির বাজার প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
ক্রেতারা বলছেন, শীত মৌসুমে সাধারণত সবজির সরবরাহ বাড়ে এবং দাম কমে আসে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে সেই চিত্র আর দেখা যাচ্ছে না। মিরপুরের এক ক্রেতা মোস্তফা বলেন, “শীত এলেই আগে সবজির দাম কমত। এখন উল্টো শীতকালেই দাম বাড়ে। এটা পরিষ্কারভাবে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি।”
তবে বিক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বাড়ায় পাইকারি বাজারেই সবজির দাম কমছে না। এর প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। সবজি বিক্রেতা সোহেল জানান, “তীব্র শীত, কুয়াশা আর শ্রম ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে তখন দাম কিছুটা কমতে পারে।”
বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি গাজর বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, শিম ৪০ থেকে ৬০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, শালগম ৫০ টাকা, মটরশুঁটি ১৩০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা ও কচুরমুখী ৬০ টাকায়। এছাড়া চিচিঙ্গা ৮০ টাকা ও বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যান্য সবজির মধ্যে টমেটো কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা, শসা ৮০ টাকা। বাঁধাকপি প্রতি পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ব্রকলি ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং ফুলকপি আকারভেদে ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে নতুন মৌসুমের মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসায় পেঁয়াজের দামে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। বর্তমানে মুড়িকাটা পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, আমদানি করা পেঁয়াজ ৬০ টাকা এবং দেশি পুরোনো পেঁয়াজ ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে মুরগির বাজারে বেড়েছে দাম। কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা দরে। সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিমের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে—প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়।
এছাড়া গরুর মাংস বাজারভেদে কেজিপ্রতি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


