অনলাইন ডেস্ক

ফুটবল মাঠে বিস্ময় ছড়ানো বার্সেলোনার তরুণ উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল—মাত্র অল্প বয়সেই যিনি ইউরোপীয় ফুটবলের আলোচনার কেন্দ্রে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার বিষয় শুধু তার ড্রিবলিং বা গোল নয়, বরং তার ব্যক্তিগত জীবনও। এমন প্রেক্ষাপটে ইয়ামালকে ঘিরে ভিন্নধর্মী মন্তব্য করেছেন এসি মিলান ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের সাবেক পর্তুগিজ উইঙ্গার পাউলো ফুত্রে।
ফুত্রের যুক্তি: প্রেম মানেই দায়িত্ববোধ
স্প্যানিশ একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে ইয়ামালকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ফুত্রে বলেন,
“লামিনে ইয়ামাল খুবই তরুণ। তার একজন গার্লফ্রেন্ড থাকা দরকার। একজন স্থায়ী সঙ্গী একজন ফুটবলারকে আরও দায়িত্বশীল ও পেশাদার করে তোলে।”
নিজের জীবনের উদাহরণ টেনে তিনি আরও যোগ করেন,
“আমি যখন আমার সন্তানের মায়ের সঙ্গে পরিচিত হই, তখন থেকেই শতভাগ পেশাদার হয়ে উঠি। কম বাইরে যেতাম, জীবনে শৃঙ্খলা আসে। ইয়ামালও যদি বিশ্বসেরা হতে চায়, তাকে এ দিকটিও গুরুত্ব দিতে হবে।”
ফুত্রের মতে, মাঠের বাইরে স্থিরতা থাকলে মাঠের ভেতরে মনোযোগ আরও বাড়ে—আর সেখান থেকেই জন্ম নেয় সেরা ফুটবলার।
ইয়ামালের আলোচিত প্রেম অধ্যায়
লামিনে ইয়ামালের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কম আলোচনা হয়নি। আগে তিনি সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার অ্যালেক্স পাদিয়ার সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন। এরপর গুঞ্জন ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে আর্জেন্টাইন পপ তারকা নিকি নিকোলের সঙ্গে তার সম্পর্ক।
জুলাই মাসে, ইয়ামালের ১৮তম জন্মদিনের সময় এই সম্পর্কের সূচনা হয়। নিকি নিকোল তখন বার্সেলোনায় গিয়ে তার সঙ্গে সময় কাটান। এরপর থেকেই বার্সেলোনার ম্যাচে স্ট্যান্ডে নিকোলের উপস্থিতি নজর কাড়ে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অলিম্পিয়াকোসের বিপক্ষে গোলের পর ইয়ামালের উড়ন্ত চুম্বন অনেকেই নিকোলের উদ্দেশে বলে মনে করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় তাদের একসঙ্গে ডিনার, এমনকি ক্রোয়েশিয়ার উপকূলে হেলিকপ্টার ভ্রমণের ছবিও।
সম্পর্ক স্বীকার, তারপর বিচ্ছেদ
সেপ্টেম্বরে একটি ফ্যাশন ইভেন্টে নিকি নিকোল নিজেই সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, ইয়ামাল তাকে কাতালান ভাষায়
‘ত এস্তিমো’ (আমি তোমাকে ভালোবাসি) বলতে শিখিয়েছেন।
তবে সেই সম্পর্ক বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। সম্প্রতি ইয়ামাল নিজেই নিশ্চিত করেছেন—নিকি নিকোলের সঙ্গে তার সম্পর্ক শেষ।
ফুটবল বনাম ব্যক্তিগত জীবন
ইয়ামাল এখন বার্সেলোনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অন্যতম স্তম্ভ। ক্লাব ও দেশের হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে তিনি ইতিমধ্যেই ‘বিশ্বসেরার সম্ভাব্য দাবিদার’ হিসেবে বিবেচিত। তবে ফুত্রের মন্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—
একজন তরুণ ফুটবলারের সাফল্যে ব্যক্তিগত জীবনের স্থিতিশীলতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
সমর্থক ও বিশ্লেষকদের মতে, প্রেম কিংবা সম্পর্ক ব্যক্তিগত বিষয় হলেও, সেটি যদি দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্ব বাড়ায়—তবে সেটি ক্যারিয়ারের জন্য ইতিবাচকও হতে পারে।
লামিনে ইয়ামালের সামনে সময় অনেক। প্রেম, বিচ্ছেদ ও আলোচনার ভিড় পেরিয়ে তার মূল লক্ষ্য এখনো একটাই—ফুটবল মাঠে নিজেকে বিশ্বসেরাদের কাতারে পৌঁছে দেওয়া। পাউলো ফুত্রের পরামর্শ তিনি গ্রহণ করবেন কি না, সেটি সময়ই বলবে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—ইয়ামাল এখন শুধু একজন তরুণ ফুটবলার নন, তিনি বিশ্ব ফুটবলের এক উজ্জ্বল গল্পের নাম।


