নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে এখনো ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। তেলসংকট নিয়ে মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক ছিল তা কিছুটা কমলেও সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় ভোগান্তি পুরোপুরি কাটেনি। কোথাও কোথাও তেল পাওয়া গেলেও অনেক পাম্পে সীমিত সরবরাহের কারণে বিক্রি বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
শনিবার রাজধানীর মিরপুর কালশীর সুমাত্রা ফিলিং স্টেশনে প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। অনেক চালককে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হয়েছে।
মিরপুর শ্যাওড়াপাড়ার বাসিন্দা আবু সুফিয়ান জানান, সামনে ঈদের ছুটি থাকায় আগেভাগেই গাড়িতে তেল ভরে রাখতে চান অনেকেই।
তিনি বলেন, “দুই-এক দিনের মধ্যে অফিস বন্ধ হয়ে যাবে। তাই কষ্ট করে হলেও গাড়িতে তেল নিয়ে রাখছি।”
তবে রাজধানীর সব পেট্রোল পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। পরীবাগের পূর্বাচল ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশনে টানা তিন দিন ধরে ‘তেল নেই’ ব্যানার ঝুলতে দেখা গেছে।
স্টেশনটির ক্যাশিয়ার মো. জাফর বলেন, ডিপো থেকে মাসে যে পরিমাণ তেল পাওয়া যায় তার ভিত্তিতেই বিক্রি করতে হচ্ছে। আগে চাহিদা কম থাকায় ওই তেল দুই থেকে তিন দিন বিক্রি করা যেত, কিন্তু এখন চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এক দিনেই মজুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে বাকি দিনগুলোতে বিক্রি বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
এদিকে মৎস্য ভবন মোড়ের রমনা ফিলিং স্টেশনেও শনিবার ক্রেতাদের লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি তেল কিনতে দেখা গেছে। পাঠাও মোটরসাইকেল চালক সবুজ মিয়া বলেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় লাইনের দৈর্ঘ্য কিছুটা কমেছে।
তার ভাষায়, “আগের মতো আতঙ্ক এখন আর নেই। তবে তেল নিতে এখনো লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।”
সামগ্রিকভাবে তেলসংকটের আশঙ্কা কিছুটা কমলেও সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় রাজধানীবাসীর ভোগান্তি এখনো পুরোপুরি কাটেনি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


