
মহারাজ আবুল সরকারের ফাঁসি, এটা তো খুবই হালকা। এই ভণ্ড, ঘোলাজলে মাছ শিকার করা ধর্মান্ধ রাষ্ট্রে সত্য বলার অপরাধ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, শুধু ফাঁসি নয়, জনসম্মুখে পাথর ছুঁড়ে হত্যা করলেও কম হবে। কারণ, এখানে অন্ধের দেশে আয়নার দোকানদারকে বাঁচিয়ে রেখে লাভ নেই। যার নিজের মুখ দেখার সাহস নেই, সে-তো আয়নাকেই ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করবে।
এই দেশ আজ মহারাজদের দেশ নয়, এই দেশ ছিনতাই হয়ে গেছে ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর হাতে। যারা ভাবছে দেশের মালিক তারা, আর বাকিরা হলো দাসত্বে আবদ্ধ প্রজা। এখানে চৈতন্যপুরুষদেরও আর জায়গা নেই। কারণ, এই ভূমির বুকে আজ জেগে আছে কেবল অজ্ঞতার দানব, দম্ভের প্রেতাত্মা, আর ভণ্ডদের বিজয় নৃত্য।
আজ চারদিক শুধু মূর্খতার কাদায় ডুবে আছে। সত্য বললেই রক্ত চাই, প্রশ্ন করলেই গলা চাই, আর যুক্তি দেখালেই তোমাকে নাস্তিক-ধর্মদ্রোহী-রাষ্ট্রদ্রোহী সব তকমা গায়ে সাঁটা হয়। এ যেন মধ্যযুগীয় বর্বরতার নতুন সংস্করণ, যেখানে মানুষের মাথার দাম নেই, কিন্তু ভণ্ডামির সম্মান পাহাড় সমান।
সে কারণেই মাননীয় সরকারের প্রতি আমাদের আর্তনাদ, আপনাদের কাছে যদি আমাদের রক্ষা করার বিন্দুমাত্র সদিচ্ছাও না থাকে, যদি আপনারা নীরব থেকে মিথ্যার জয়যাত্রা উপভোগ করেন, তাহলে দয়া করে অভিনয় বন্ধ করুন।
আমাদেরকে একযোগে বিষ খাইয়ে দিন, অথবা সোজা ক্রস ফায়ারের লাইনে দাঁড় করিয়ে দিন। কারণ, প্রতিদিনের লাঞ্ছনা, নির্যাতন, হুমকি-এসবের থেকে আপনার বুলেটই হয়তো বেশি সৎ, বেশি নির্ভেজাল।
আজ যেমন মিথ্যা সত্যকে মাটিতে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে, আপনার প্রশাসনও তাদের সামনে হাঁটু গেড়ে পড়ে আছে, বা বলা ভালো-হাঁটু গেড়ে পড়তে বাধ্য করা হয়েছে। কিন্তু ভুলে যাবেন না, সত্যকে কোনওদিন মেরে ফেলা যায় না। যেখানেই তাকে চেপে রাখা হয়, সেখানে সে আগ্নেয়গিরির মত ফেটে ওঠে।
সেদিন খুব দূরে নয়, যেদিন সত্য মাথা তুলে দাঁড়াবে। আর মিথ্যার সব দুর্গ ভেঙে জলাঞ্জলি যাবে। সেদিন আপনাদের প্রশাসন, আপনারা যে আইন, যে ক্ষমতার বড়াই করে ঘুরে বেড়ান, সব ধুলায় মিশে যাবে। কারণ, সত্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মানেই নিজের কবর নিজেই খোঁড়া।
লেখা -মোহন


