সোমবার, জুলাই ৬, ২০২৬

বিশৃঙ্খলা হলো অগ্রগতির বড় শত্রু, বললেন ড. ইউনূস

পাঠক প্রিয়

নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাত ৮:৩০টায় তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নেবেন। এর আগে, দুপুরে ফ্রান্স থেকে ঢাকায় এসে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময়, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। ড. ইউনূস তার বক্তব্যে দেশের সংঘাত, সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা কাটিয়ে সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তার সঙ্গে ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা।

প্রথমেই ড. ইউনূস বলেন, “আজ আমাদের গৌরবের দিন। বাংলাদেশ আজ নতুন এক বিজয় দিবস সৃষ্টি করেছে, যা আমাদের আরও মজবুত করে এগিয়ে নিতে হবে। আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি সেই তরুণ সমাজকে, যারা এটি সম্ভব করেছে। তারা আজ আমার পাশে রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “তারা এ দেশকে রক্ষা করেছে এবং নতুনভাবে পুনর্জন্ম দিয়েছে। আমরা এই পুনর্জন্মের বাংলাদেশকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। এটাই আমাদের শপথ এবং আমরা তা রক্ষা করবো।”

ড. ইউনূস আবেগময় কণ্ঠে স্মরণ করেন আবু সাঈদকে, যিনি বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে অদম্য সাহস দেখিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “তারপর থেকে কোনো যুবক-যুবতী আর হার মানেনি। যতই গুলি মারো, আমরা আছি।”

তিনি বলেন, “যার কারণে এই আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীনতা অর্জন করেছে, সেই স্বাধীনতা আমাদের রক্ষা করতে হবে। শুধু রক্ষা নয়, এ স্বাধীনতার সুফল প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। তা না হলে এ স্বাধীনতার কোনো মূল্য নেই।”

ড. ইউনূস আরও বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা মানে মানুষের নিজের পরিবর্তন, ব্যক্তিগত উন্নয়ন, সুযোগের পরিবর্তন এবং তার সন্তানদের ভবিষ্যতের উন্নতি। আমাদের তরুণ সমাজকে বুঝতে হবে যে, এই দেশটা তাদের হাতে এবং তারা এটিকে তাদের মতো করে গড়তে পারবে।”

তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “পুরোনো চিন্তা বাদ দিয়ে সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে হবে। সরকারকে দমন-পীড়নের যন্ত্র হিসেবে দেখা যাবে না। সরকারকে মানুষের আস্থাভাজন হতে হবে, যেন মানুষ বিশ্বাস করতে পারে যে, সরকারি লোক মানে তাদের রক্ষক।”

তিনি বলেন, “আমাদের সবার একত্রে কাজ করতে হবে। দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে, যাতে দেশকে অগ্রসর করার পদক্ষেপ নেওয়া যায়।”

দেশবাসীর প্রতি আস্থা রেখে ড. ইউনূস বলেন, “ছাত্ররা আমাকে চেয়েছে, আমি তাদের ডাকে সাড়া দিয়েছি। আমার প্রথম দায়িত্ব হলো দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনা। যদি আমার প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে আমাকে দেখাতে হবে যে আপনারা আমাকে মানেন।”

শেষে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটি সুন্দর দেশ এবং একে সুন্দরভাবে গড়ে তোলা সম্ভব। আমাদের তরুণরাই এ দেশের ভবিষ্যৎ, তাদের হাত ধরে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।”

সর্বশেষ সংবাদ

প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান, নাকি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সূচনা?

সুফি সাগর সামস বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের সংঘাতমুখী রাজনীতি, ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে প্রতিশোধের সংস্কৃতি,...

শিরোনাম: চীন-মিয়ানমার করিডরে যুক্ত হলে ২৪ ঘণ্টায় চীনে পৌঁছাবে বাংলাদেশের পণ্য: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডরে বাংলাদেশ যুক্ত হলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাকে করে বাংলাদেশ থেকে চীনে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী...

জাবির বাজেট ৩৪৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা, গবেষণায় বরাদ্দ শূন্য

স্টাফ রিপোর্টার | জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩৪৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট। শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায়...

বিশ্বকাপ জিতবে রোনালদোর পর্তুগাল’—ঘানার পুরোহিতের চাঞ্চল্যকর দাবি

স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এক চাঞ্চল্যকর ও বিতর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন ঘানার আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব নানা কোয়াকু বোনসাম। তার দাবি, আগামী বিশ্বকাপে...

বিয়েতে ১০০ জনের বেশি অতিথি হলে অতিরিক্ত জনপ্রতি ১ হাজার টাকা ট্যাক্সের প্রস্তাব

অনলাইন ডেস্ক ঢাকা: বিয়ের অনুষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি অতিথি হলে অতিরিক্ত প্রত্যেক অতিথির জন্য এক হাজার টাকা করে সরকারি ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের...

জনপ্রিয় সংবাদ