শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

বিশৃঙ্খলা হলো অগ্রগতির বড় শত্রু, বললেন ড. ইউনূস

পাঠক প্রিয়

নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাত ৮:৩০টায় তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নেবেন। এর আগে, দুপুরে ফ্রান্স থেকে ঢাকায় এসে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময়, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। ড. ইউনূস তার বক্তব্যে দেশের সংঘাত, সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা কাটিয়ে সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তার সঙ্গে ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা।

প্রথমেই ড. ইউনূস বলেন, “আজ আমাদের গৌরবের দিন। বাংলাদেশ আজ নতুন এক বিজয় দিবস সৃষ্টি করেছে, যা আমাদের আরও মজবুত করে এগিয়ে নিতে হবে। আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি সেই তরুণ সমাজকে, যারা এটি সম্ভব করেছে। তারা আজ আমার পাশে রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “তারা এ দেশকে রক্ষা করেছে এবং নতুনভাবে পুনর্জন্ম দিয়েছে। আমরা এই পুনর্জন্মের বাংলাদেশকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। এটাই আমাদের শপথ এবং আমরা তা রক্ষা করবো।”

ড. ইউনূস আবেগময় কণ্ঠে স্মরণ করেন আবু সাঈদকে, যিনি বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে অদম্য সাহস দেখিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “তারপর থেকে কোনো যুবক-যুবতী আর হার মানেনি। যতই গুলি মারো, আমরা আছি।”

তিনি বলেন, “যার কারণে এই আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীনতা অর্জন করেছে, সেই স্বাধীনতা আমাদের রক্ষা করতে হবে। শুধু রক্ষা নয়, এ স্বাধীনতার সুফল প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। তা না হলে এ স্বাধীনতার কোনো মূল্য নেই।”

ড. ইউনূস আরও বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা মানে মানুষের নিজের পরিবর্তন, ব্যক্তিগত উন্নয়ন, সুযোগের পরিবর্তন এবং তার সন্তানদের ভবিষ্যতের উন্নতি। আমাদের তরুণ সমাজকে বুঝতে হবে যে, এই দেশটা তাদের হাতে এবং তারা এটিকে তাদের মতো করে গড়তে পারবে।”

তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “পুরোনো চিন্তা বাদ দিয়ে সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে হবে। সরকারকে দমন-পীড়নের যন্ত্র হিসেবে দেখা যাবে না। সরকারকে মানুষের আস্থাভাজন হতে হবে, যেন মানুষ বিশ্বাস করতে পারে যে, সরকারি লোক মানে তাদের রক্ষক।”

তিনি বলেন, “আমাদের সবার একত্রে কাজ করতে হবে। দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে, যাতে দেশকে অগ্রসর করার পদক্ষেপ নেওয়া যায়।”

দেশবাসীর প্রতি আস্থা রেখে ড. ইউনূস বলেন, “ছাত্ররা আমাকে চেয়েছে, আমি তাদের ডাকে সাড়া দিয়েছি। আমার প্রথম দায়িত্ব হলো দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনা। যদি আমার প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে আমাকে দেখাতে হবে যে আপনারা আমাকে মানেন।”

শেষে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটি সুন্দর দেশ এবং একে সুন্দরভাবে গড়ে তোলা সম্ভব। আমাদের তরুণরাই এ দেশের ভবিষ্যৎ, তাদের হাত ধরে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।”

সর্বশেষ সংবাদ

‘সার্ভিস’ শব্দের বিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু কী মানুষের মুক্তি ঘটেছে?

সুফি সাগর সামস্ ভাষা, ক্ষমতা ও মানবমর্যাদা নিয়ে একটি পুনর্বিবেচনা সভ্যতার ইতিহাসে শব্দ কখনো কেবল শব্দ নয়; তারা একটি যুগের সামাজিক...

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, জরুরি সংবাদ সম্মেলন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা, শুক্রবার: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। ইতোমধ্যে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের...

মানবমস্তিষ্ক: মহাবিশ্বের ভেতর আরেক মহাবিশ্ব

সুফি সাগর সামস্ মহাবিশ্বের সবচেয়ে বিস্ময়কর সৃষ্টি কি কোনো নক্ষত্র, গ্যালাক্সি বা কৃষ্ণগহ্বর? হয়তো নয়। হয়তো সবচেয়ে বিস্ময়কর কাঠামো হলো মানবমস্তিষ্ক—কারণ এই ক্ষুদ্র জৈবিক অঙ্গই সমগ্র মহাবিশ্বকে...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হারিয়ে গেলে স্বাধীনতার মূল্যবোধও হারাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখা না গেলে একসময় স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্যবোধও হারিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ...

এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না : ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সুশৃঙ্খল করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের লক্ষ্যে একগুচ্ছ প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে...

জনপ্রিয় সংবাদ