বিশেষ প্রতিবেদন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তত ২৫ থেকে ৩০টি আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এসব আসনে বাদ পড়তে পারেন কয়েকজন বর্তমান ঘোষিত প্রার্থী, আর তাঁদের স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন নতুন মুখ।
দলীয় নীতিনির্ধারণী মহল জানায়, ঘোষিত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই একাধিক আসনে তীব্র কোন্দল, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থী বাদ যাওয়ার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে কেউ কেউ কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন, কেউ বা নিজ এলাকায় সভা–সমাবেশ ও শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে নতুন করে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
কোন্দলের কারণ ও প্রার্থীদের দুর্বলতার মূল্যায়ন শেষ পর্যায়ে
বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশে আসনভিত্তিক অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণ, প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক অবস্থান এবং স্থানীয় সমীকরণের ওপর ভিত্তি করে একটি বিশেষ টিম কাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা জানায়, টিমটি মনোনয়নবঞ্চিত ও ঘোষিত প্রার্থী—উভয় পক্ষের অবস্থান ও জনপ্রিয়তা যাচাই করে বিস্তারিত প্রতিবেদন হাইকমান্ডে পাঠিয়েছে। এসব তথ্যের আলোকে মনোনয়ন বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
দলীয় সূত্র বলছে, অনেক আসনেই ঘোষিত প্রার্থীর মাঠপর্যায়ে দুর্বলতা, স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনীহা, ভোটারদের সঙ্গে দুর্বল যোগাযোগ, কিংবা তৃণমূলের ভিন্নমতের কারণে পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। আবার কিছু আসনে নতুন মুখের প্রতি সমর্থন বাড়ায় হাইকমান্ড বিকল্প ভাবছে।
মনোনয়ন বদলের একক এখতিয়ার কেন্দ্রের
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায় স্পষ্ট করেছে, ঘোষিত আসনে প্রার্থী পরিবর্তন সম্পূর্ণই হাইকমান্ড ও দলের মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত। কোনো ধরনের চাপ বা বিক্ষোভে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ নেই। তবে তৃণমূলের মতামত, স্থানীয় সমীকরণ এবং নির্বাচনী যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
দলীয় নেতাদের ভাষ্য, বিএনপি এবার এমন প্রার্থী চূড়ান্ত করতে চায়, যারা মাঠে সক্রিয়, গ্রহণযোগ্য এবং প্রতিযোগিতা সক্ষম। নির্বাচনী বাস্তবতা বিবেচনায় এ কারণেই আসনভিত্তিক পরিবর্তন হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
দলীয় অঙ্গনে চাপ, লবিং, বিক্ষোভ অব্যাহত
প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে লবিং–তদবিরের তৎপরতা। ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। মনোনয়নবঞ্চিতদের কেউ কেউ আবার ‘অন্যায় বঞ্চনা’ দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
দলীয় নীতিনির্ধারণী একটি সূত্র জানায়, “কিছু আসনে ঘোষিত প্রার্থীদের ওপর আস্থা কমেছে, আবার কিছু নতুন প্রার্থীকে নিয়ে তৃণমূলের সাড়া মিলছে। সবকিছু যাচাই–বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা দেওয়া হবে।”
শিগগিরই আসছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, দলীয় টিমের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মনোনয়ন বোর্ড দ্রুতই পর্যালোচনা সম্পন্ন করবে। এরপরই পরিবর্তিত ও হালনাগাদ প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগেই এ তালিকা প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে।


