অনলাইন ডেস্ক

মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ও ইশরাক হোসেন–এর কড়া হুঁশিয়ারির পরও রাজধানীসহ বিভিন্ন বাজারে নিত্যপণ্যের দামে অস্থিরতা থামছে না। অভিযোগ উঠেছে, একটি বাজারের নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি ‘ক্ষমতার দাপট’ দেখিয়ে ভোক্তা অধিদপ্তরের মনিটরিং কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেছেন। এমনকি তদারকিতে যাওয়া কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
মনিটরিংয়ে অপমান, প্রশ্নে প্রশাসনের কর্তৃত্ব
বাজার তদারকির সময় একাধিক ব্যবসায়ী নেতার উপস্থিতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বাজার কমিটির সভাপতি প্রকাশ্যেই মনিটরিং টিমকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় দেখা যায়, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গড়ায় যে কর্মকর্তাদের কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—যদি বাজার তদারকিতে যাওয়া কর্মকর্তারাই অপমানিত হন, তাহলে সাধারণ ক্রেতা ন্যায্যমূল্য পাবেন কীভাবে?
সিন্ডিকেটের দাপটে রাতারাতি দ্বিগুণ-তিনগুণ দাম
ভোক্তাদের অভিযোগ, রমজান ঘিরে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেট নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়েছে। ৭০ টাকার পণ্য মুহূর্তেই ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে—এমন উদাহরণ এখন নিত্যদিনের। বিশেষ করে সবজি, ফল, ডাল, চিনি ও ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা বেশি।
নিম্নআয়ের মানুষেরা বলছেন, আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের কোনো সামঞ্জস্য নেই। বাজারে গেলে হাতে থাকা টাকায় আগের তুলনায় অর্ধেক জিনিসও পাওয়া যাচ্ছে না।
মন্ত্রীদের হুঁশিয়ারি
ধর্মমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনও খাদ্য মাফিয়াদের সতর্ক করে বলেন, “সাধারণ মানুষ না খেলে মাফিয়াদের বাড়িতেও রান্না হবে না।”
সরকারের এই কড়া অবস্থানের পরও মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন না আসায় প্রশ্ন উঠছে—বক্তব্যের বাস্তব প্রয়োগ কোথায়?
বিশেষজ্ঞদের মত: শক্ত হাতে সিন্ডিকেট ভাঙলেই মিলবে স্বস্তি
অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে অস্থিরতার পেছনে সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব বড় কারণ। নিয়মিত মনিটরিং, মোবাইল কোর্টের কার্যকর অভিযান এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিই বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে পারে।
ভোক্তাদের দাবি
-
বাজার মনিটরিংয়ে বাধা দিলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা
-
সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে লাইসেন্স বাতিল
-
প্রতিদিনের দাম তালিকা প্রকাশ ও কঠোর নজরদারি
-
রমজানকেন্দ্রিক বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—নতুন সরকারের শুরুটা হোক সিন্ডিকেটবিরোধী দৃশ্যমান পদক্ষেপ দিয়ে। বাজারে শৃঙ্খলা ফিরলে রমজানে স্বস্তি পাবে লাখো পরিবার। এখন দেখার বিষয়, হুঁশিয়ারি কত দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নেয়।


