নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘বাংলাদেশ রিফর্ম ট্র্যাকার’ ওয়েবসাইট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মন্তব্য করেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আহ্বানে যে উদ্দীপনা ও উত্তেজনা নিয়ে সংস্কার উদ্যোগ শুরু হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, “যে উদ্দীপনা, উত্তেজনা নিয়ে আমরা সংস্কারের প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম, সেই উদ্যোগ বা উদ্দীপনা কোথাও যেন ম্রিয়মাণ হয়ে গেল।” দেবপ্রিয় আরও উল্লেখ করেন, নকশা করা যেমন কঠিন, বাস্তবায়ন করা তত সহজ নয়। অতীতে প্রতিযোগিতাহীন রাজনীতির কারণে দেশের অর্থনীতি প্রতিযোগিতাহীন হয়ে উঠেছিল এবং ফলে সাধারণ মানুষ উন্নয়নের পূর্ণ সুবিধা উপভোগ করতে পারেনি।
তিনি ক্রনি ক্যাপিটালিজম বা চামচা পুঁজিবাদ থেকে লুটপাতন্ত্রের দিকে দেশের অগ্রগতি ঠেলে যাওয়ার বিষয়েও সতর্ক করেন। “একপর্যায়ে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে, যা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে নীতি প্রণয়নের ক্ষমতা ধীরে ধীরে ক্ষয় করে।”
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ২০২৪ সালের নাগরিক ও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে বলেন, “সংস্কারের মাধ্যমে কিভাবে সংস্কারবিরোধী চক্র ভাঙা যায় এবং গণপক্ষে অর্থনীতি ও সমাজনীতি পরিচালনা করা যায়—এটাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।”
তিনি সংস্কার প্রক্রিয়ার দুর্বলতার কারণ হিসেবে স্বচ্ছতা ও তথ্য-উপাত্তের ধারাবাহিকতার অভাব, সরকারের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের ঘাটতি এবং অংশীজনদের সংগঠিত করার পর্যাপ্ত উদ্যোগের অভাবকে দায়ী করেন। দেবপ্রিয় বলেন, “শুধু সংস্কারের নকশা করলেই হবে না। নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ ছাড়া সংস্কার অসম্পূর্ণ থেকে যায়। সেই সুযোগে স্বার্থের গোষ্ঠী সংস্কারকে কুক্ষিগত করে দিতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত মানুষের পক্ষে যায় না।”


