আকিদুল ইসলাম

এই সময়ের বাংলাদেশে আব্দুন নূর তুষার আলোচিত-সমালোচিত ব্যক্তি। ইদানীং টকশোতে তার নানা বক্তব্যের জন্য জুলাই যোদ্ধা ও সমর্থকদের অনেকেই দেখছি, তুষারের ওপর ক্ষুব্ধ। তারা ভুলেই গেছেন, আব্দুন নূর তুষার জুলাইয়ে রাস্তায় নেমে যখন শেখ হাসিনার পতন দাবী করেছিলেন তখন এদের অনেকেই রাস্তায় নামবেন কিনা তা ভাবছিলেন ঘরের দরজা বন্ধ করে।
তুষার RTv তে Road To Democracy নামে অত্যান্ত জনপ্রিয় একটি টকশো উপস্থাপনা করতেন এক সময়। আমি ওই শোতে একজন অতিথি হিসেবে কথা বলতে গিয়েছিলাম একবার। সেই প্রথম তার সঙ্গে আমার দেখা। এর পর আমার উপস্থাপনায় বেশ কয়েকটি টকশোতে তিনি অতিথি হয়ে এসেছেন। আমি কখনোই দেখিনি যে, তিনি নিজের মত ও বক্তব্য প্রতিষ্ঠিত করতে অযৌক্তিক কিছু বলেছেন।
জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে সব থেকে বড় অভিযোগ তোলা হচ্ছে এই বলে যে, তিনি ’সফটলি’ আওয়ামীলীগের পক্ষে কথা বলছেন, জুলাই বিপ্লবীদের সমালোচনা করছেন। কেউ কি এখন পর্যন্ত বলতে পেরেছেন যে, তুষার একটি কথাও অযৌক্তিক বলেছেন! তার সব থেকে বড় শত্রুও বলতে পারবেন না যে তিনি মিথ্যা বয়ান হাজির করছেন। তিনি কখনোই উস্কানিমূলক বক্তব্য হাজির করেন না। তার যুক্তির কাছে, তার শানিত বক্তব্যের কাছে যারা নিয়ত পরাজিত হচ্ছেন তারাই মূলত তার গ্রেফতার দাবী করছেন।
একটি কথা মনে রাখবেন, আব্দুন নূর তুষার কিন্তু আনিস আলমগীরের মত ভিউ ব্যবসায়ী নন। আনিসের মত তুষার সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য গ্রামীণ ব্যাংকে আগুন দিতে উস্কানি দেন না। জুলাই বিপ্লবীদের সন্ত্রাসী বলেন না। তুষারকে যারা আনিসদের সঙ্গে তুলনা করছেন তারা আসলে তুষারকে চেনেন না। আব্দুন নূর তুষার যখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে তখন আজকের সমালোচকদের অনেকের জন্মও হয়নি।
জনপ্রিয়তার মোহ বহু আগেই কেটে গেছে তুষারের। তিনি এখন যা বলেন তা বিবেকের তাড়না থেকেই বলেন। সমস্যা হচ্ছে, জুলাই বিপ্লব আমাদের মহত্তর অনেক কিছু দিয়েছে সত্য, কিন্তু অনেককেই বিবেকহীনও করে দিয়েছে!
আকিদুল ইসলাম এর ফেসবুক থেকে সংগৃহীত


