নিজস্ব প্রতিবেদক

কৃষি অর্থনীতিকে টেকসই করতে সবার আগে কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য কৃষকের স্বার্থরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এবং এজন্য বিভিন্ন খাতে সাশ্রয় করা অর্থ কৃষকের কল্যাণেই ব্যয় করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘কৃষি ও খাদ্যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরাম (বিএজেএফ) আয়োজিত এ সেমিনারের স্লোগান ছিল— ‘কৃষির রূপান্তর: দেশীয় উপযোগী কৃষিযন্ত্র ও কৃষিপণ্য রপ্তানি চ্যালেঞ্জ’।
কৃষি সচিব বলেন, “চলতি বছরে আমরা চার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করেছি, যা কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে ব্যয় করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতি, অপচয় ও অকার্যকর ব্যয় কমিয়ে কৃষকের জন্য একটি শক্তিশালী সুরক্ষা বলয় তৈরি করা হবে।”
তিনি আরও জানান, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, আধুনিক কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার ইতোমধ্যেই নানা উদ্যোগ নিয়েছে। কৃষি উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কৃষকের আয়ের নিশ্চয়তা প্রদানই হবে আগামীদিনের মূল লক্ষ্য।
সেমিনারে দেশ-বিদেশের কৃষিবিদ, গবেষক, কৃষিনীতিবিদ, সাংবাদিক ও উন্নয়নকর্মীরা অংশ নেন। বক্তারা রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মাধ্যমে কৃষি খাতে দীর্ঘমেয়াদি নীতি-সমর্থন, স্থানীয় যন্ত্র উদ্ভাবনে বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কৃষিপণ্যের মানোন্নয়নে জোর দেওয়ার আহ্বান জানান।
সেমিনারের আলোচনায় উঠে আসে—দেশীয় উপযোগী কৃষিযন্ত্রের ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয় কমবে, কৃষকের শ্রমঘাটতি দূর হবে এবং রপ্তানি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিএজেএফের নেতৃবৃন্দ এবং কৃষিসংক্রান্ত গবেষণা ও নীতি–অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।


