অনলাইন ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০২৫–২৬ সালের অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ড দল মাঠের পারফরম্যান্স ও খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিল। বিশেষ করে পার্থ, ব্রিসবেন ও অ্যাডিলেড টেস্ট হেরে সিরিজের প্রথম তিনটি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইংল্যান্ডের ভরাডুবি ঘটে। এ সময় দলের কিছু ক্রিকেটার মাঠের বাইরে অনৈতিক বা অপ্রয়োজনীয় আচরণের কারণে সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে আসেন।
নুসা দ্বীপে ঘটনা:
ব্রিসবেনের গ্যাবায় দ্বিতীয় টেস্ট (৪ ডিসেম্বর) শেষ হওয়ার পর ইংল্যান্ড ক্রিকেটারদের ৯ দিনের বিরতি ছিল। এই সময়কালে বেন ডাকেটসহ কয়েকজন ক্রিকেটার কুইন্সল্যান্ডের নুসা দ্বীপে চার রাত কাটান। সামাজিক মাধ্যমে তাদের মদ্যপানের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
ইসিবির তদন্ত:
ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) বিষয়টি তদন্ত করে। দ্য ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তদন্তে ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। ইসিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে:
-
অ্যাশেজ সফরের মাঝপথে কিছুটা ঢিলেঢালা পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে।
-
দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টের মাঝখানে ৯ দিনের বিরতি ছিল।
-
পুরো দলকে একসাথে নুসা রিসোর্টে পাঠানো ঝামেলার কারণে ক্রিকেটাররা আলাদাভাবে ছুটি কাটিয়েছেন।
-
মদ্যপানের চেয়ে গুরুতর কোনো ঘটনা ঘটেনি। প্রাথমিক আশঙ্কার বিপরীতে তদন্তে কোনো গুরুতর সমস্যা পাওয়া যায়নি।
ইসিবির ব্যবস্থা পরিচালক রব কি বলেন, “যেসব খবর ছড়িয়ে পড়েছে, তার মধ্যে অনেক কিছু অতিরঞ্জিত। ক্রিকেটাররা মূলত ছুটি কাটাতে এবং পার্টির আড্ডা দিতে নুসা দ্বীপে ছিলেন।”
মাঠের পরিস্থিতি:
ইংল্যান্ড দল সিরিজের প্রথম তিন টেস্টে পার্থ, ব্রিসবেন ও অ্যাডিলেডে হেরে সিরিজের ফলাফলে পিছিয়ে ছিল। ব্রিসবেনের টেস্ট চার দিনে, পার্থের প্রথম টেস্ট দুই দিনে, এবং অ্যাডিলেড টেস্ট পুরো পাঁচ দিনে শেষ হয়েছে। সিরিজের চতুর্থ টেস্ট মেলবোর্নে দুই দিনে শেষ হয়ে ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে জিতেছে।
মাঠের ব্যর্থতা ও নুসা দ্বীপে ক্রিকেটারদের ছুটি কাটানোর ঘটনা ইংল্যান্ডের জন্য সমালোচনার কারণ হলেও, ইসিবির তদন্তে কোনো গুরুতর অপ্রীতিকর আচরণ পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, খেলোয়াড়দের ছুটি কাটানোর সময়কালে কিছু মদ্যপান হয়েছে, তবে তা সমালোচনার যোগ্য গুরুতর ঘটনা নয়।


