অনলাইন ডেস্ক

আগামী বছরের ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখতে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে নাইজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ)। আফ্রিকা অঞ্চলের প্লে-অফ ফাইনালে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) একাধিক অযোগ্য খেলোয়াড় মাঠে নামিয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছে তারা।
গত মাসে মরক্কোয় অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে নির্ধারিত সময় শেষে টাইব্রেকারে নাইজেরিয়াকে হারিয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্লে-অফে জায়গা করে নেয় ডিআর কঙ্গো। আগামী মার্চে অনুষ্ঠিতব্য এই প্লে-অফ থেকেই কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ দুটি টিকিট নির্ধারিত হবে।
এনএফএফের অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অ্যারন ওয়ান-বিসাকা ও অ্যাক্সেল তুয়ানজেবে। নাইজেরিয়ার দাবি, এই দুই ফুটবলার আন্তর্জাতিক পরিচয় পরিবর্তন করলেও ডিআর কঙ্গোর হয়ে খেলার জন্য তারা আইনগতভাবে বৈধ নন। কারণ, ডিআর কঙ্গোর জাতীয় আইনে দ্বৈত নাগরিকত্বের অনুমতি নেই, অথচ সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের ইউরোপীয় ও ফরাসি পাসপোর্ট রয়েছে।
নাইজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সানুসি বলেন,
‘আমাদের বিশ্বাস, ফিফাকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে এসব খেলোয়াড়ের খেলার অনুমতি নেওয়া হয়েছে। কঙ্গোর আইনে দ্বৈত নাগরিকত্ব অনুমোদিত নয়, অথচ তাদের কয়েকজন খেলোয়াড় একাধিক দেশের পাসপোর্টধারী। এটি ফিফার নিয়ম ভঙ্গ এবং স্পষ্ট প্রতারণা।’
এনএফএফ জানিয়েছে, অভিযোগের পক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও আইনি ব্যাখ্যা তারা ইতোমধ্যে ফিফার কাছে জমা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য জানতে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি, তবে এখনো সংস্থাটির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে অভিযোগটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ডিআর কঙ্গো ফুটবল ফেডারেশন (ফেকোফা)। লেপার্ডসদের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়,
‘আইনের ফাঁক খুঁজে জেতার চেষ্টা করছে নাইজেরিয়া। বিশ্বকাপ খেলতে হয় মর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে, আইনজীবীদের কৌশলে নয়।’
বিবৃতিতে নাইজেরিয়াকে ‘খারাপ পরাজিত’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগটিকে অখেলোয়াড়সুলভ বলেও উল্লেখ করা হয়।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় একবারই জাতীয় দল পরিবর্তনের আবেদন করতে পারেন এবং সেটি অবশ্যই লিখিতভাবে ফিফার প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষ। ফিফা একটি দেশের হয়ে খেলার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের পাসপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক করলেও, একাধিক পাসপোর্ট রাখার বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয় না। তবে ডিআর কঙ্গোর জাতীয় আইনে দ্বৈত নাগরিকত্ব অনুমোদিত না হওয়াকেই মূল যুক্তি হিসেবে সামনে আনছে নাইজেরিয়া।
ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পৌঁছানোর পর একাধিক সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত আসতে পারে। প্রমাণ অপর্যাপ্ত হলে অভিযোগ খারিজ করে ডিআর কঙ্গোর যোগ্যতা বহাল রাখা হতে পারে। তদন্তে প্রক্রিয়াগত ত্রুটি পাওয়া গেলে জরিমানা বা সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও ম্যাচের ফল অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সবচেয়ে গুরুতর ক্ষেত্রে ম্যাচ বাতিল, প্রতিপক্ষকে জয় দেওয়া বা পয়েন্ট কর্তনের মতো ক্রীড়াভিত্তিক শাস্তির সিদ্ধান্তও নিতে পারে ফিফা।
এর আগে ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অযোগ্য খেলোয়াড় খেলানোর দায়ে ইকুয়েটোরিয়াল গিনির ছয় পয়েন্ট কেটে নেয় ফিফা। যদিও পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়, তবে কাটা পয়েন্ট আর ফেরত পায়নি তারা। একইভাবে দক্ষিণ আফ্রিকাও স্থগিত খেলোয়াড় নামানোর কারণে লেসোথোর বিপক্ষে জয় হারিয়ে ৩-০ ব্যবধানে পরাজিত হিসেবে গণ্য হয়েছিল।
এবার নাইজেরিয়ার অভিযোগে ফিফা কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে আফ্রিকার ফুটবল অঙ্গন।


