নিজস্ব প্রতিবেদক
গুম (অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, আটক, অপহরণ বা স্বাধীনতা হরণ — পরে তার অস্তিত্ব, অবস্থান বা পরিণতি গোপন করা) একটি ফৌজদারী অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত হয়েছে।
গুমের জন্য সাজা: যদি গুম হয় কিন্তু মৃত্যু না ঘটে — জীবন বিচার (জেবজ্জীবন কারাদণ্ড) বা অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ঊর্ধ্বে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা।
যদি গুমের ফলে মৃত্যু ঘটে, বা গুম-এর ৫ (বা ৭) বছর পরেও ব্যক্তির কোনও খোঁজ না পাওয়া যায় — সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১ কোটি টাকা জরিমানা।
গোপন আটককেন্দ্র স্থাপন বা ব্যবহার (যেমন “আয়নাঘর”) — Seven years কারাদণ্ড ও জরিমানা; প্রমাণ নষ্ট বা গুম-সম্পর্কিত প্রমাণ মুছলে সর্বোচ্চ ৭ বছরের সাজা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা কমান্ডার যারা গুমের আদেশ, অনুমতি, নির্দেশ, অনুমোদন অথবা নীরব সম্মতি/অগ্রাহ্য ইত্যাদিতে যুক্ত — তাদেরও মূল অপরাধের মতোই দণ্ড দেওয়া হবে।
গুম-সংক্রান্ত অভিযোগের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, এবং অভিযোগ গঠনের ১২০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করতে বাধ্য হবে। ভুক্তভোগী, তথ্যদাতা ও সাক্ষীর নিরাপত্তা, ক্ষতিপূরণ, আইনগত সহায়তা এবং পুনর্বাসনের জন্য সুযোগ রাখা হয়েছে।
কেন এই আইন গুরুত্বপূর্ণ
-
এই অধ্যাদেশ দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক আইন, কারণ প্রথমবার গুমকে “চলমান অপরাধ” হিসেবে ফৌজদারী ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
-
গোপন আটককেন্দ্র বা “আয়নাঘর”-র মতো গোপন রাখার প্রক্রিয়া এবং গুমকে অস্বীকার করার প্রথা বন্ধ করার জন্য আইনগত রূপ দেওয়া হয়েছে।
-
বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল + ১২০ দিনের সময়সীমা + জামিন ও আপস অযোগ্য অপরাধ হিসেবে আমলে নেওয়া হয়েছে, যাতে বিচার প্রক্রিয়া কার্যকর হয়।
-
একই সাথে, ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে দায়ী করা হয়েছে—‘কমান্ড বা নিয়ন্ত্রক দায়িত্ব’ প্রণীত হয়েছে।
উদ্বেগ ও সমালোচনা
-
কিছু মানবাধিকার সংগঠন এবং আইন-বিশেষজ্ঞ বলছেন, এই আইন কিছু দিক থেকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে তৈরি হয়নি। যেমন, আদেশদাতা না হলেও ‘নীরব সম্মতি’ বা ‘অগ্রাহ্য/অদক্ষতা’র কারণে দায়িত্বোপলব্ধ রাখাটা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী প্রত্যাশিত নয়।
-
বিচার in absentia (অন্তAbsent উপস্থিত না থাকলেও বিচারের সুযোগ) এবং মৃত্যুদণ্ডের বিধান — যা একাংশের মতে মানবাধিকার ও ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
-
অনেকে আবার প্রশ্ন করেন, শুধুমাত্র আইন তৈরি করলেই হবে না—প্রয়োগ, স্বচ্ছতা, স্বাধীন তদন্ত, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
প্রেক্ষাপট
-
২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট International Convention for the Protection of All Persons from Enforced Disappearance-তে বাংলাদেশ যোগ দেয়। গত ৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে উপদেষ্টা পরিষদ এই অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।
-
১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে গেজেট হিসেবে আইন প্রণীত হয়েছে।



