
পঞ্চগড় প্রতিনিধি: মাঘ মাসের শুরুতেই দেশের উত্তরের হিমালয়ান সমতল অঞ্চলের জেলা পঞ্চগড়ে হাড় কাঁপানো শীত বিরাজ করছে। কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না জেলায়। ঘন কুয়াশায় সারাদিন ঢেকে থাকছে চারপাশ। মঙ্গলবার (তারিখ) পঞ্চগড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, তাপমাত্রা আরও নিচে নামতে পারে।
এমন প্রতিকূল আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন জেলার শ্রমজীবী গ্রামীণ নারীরা। তীব্র শীতে শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। সংসারের কাজ শেষ করে জীবিকার তাগিদে প্রতিদিনই বের হতে হয় তাদের। কেউ কাজ করেন পাথর ভাঙা ক্র্যাশিং মেশিনে, কেউ ফসলের মাঠে, আবার কেউ নিজেদের খামারেই ব্যস্ত থাকেন।
শীতের তীব্রতায় ঘরের কাজেও বরফের মতো ঠান্ডা পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে এসব নারীকে। হিমালয় থেকে বয়ে আসা হিমশীতল বাতাস আর ঠান্ডা মাটিতে অনেককে খালি পায়ে কাজ করতে হচ্ছে। ফলে হাত-পা ফাটা, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, ঠোঁট ফেটে রক্ত পড়া, মুখমণ্ডল কুঁচকে যাওয়াসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন তারা।
পঞ্চগড় শহরের কমলাপুর এলাকার পাথর ক্র্যাশিং মেশিনের নারী শ্রমিক শরিফা বেগম বলেন,
“ভোরে উঠে ঘরের কাজ আর রান্না শেষ করে কাজে আসতে হয়। বরফের মতো ঠান্ডা পানি নাড়তে নাড়তে হাতের চামড়া উঠে গেছে। পা ফেটে গেছে, ঠোঁট ফাটছে। রাতে ব্যথা আরও বেড়ে যায়। কিন্তু কী করবো—ছেলেমেয়েরা স্কুলে যায়, সংসারের খরচ মেটাতে গিয়ে শীতের কাপড় বা নিজের যত্নের জিনিস কেনা হয় না।”
শীতের প্রকোপে জেলা সদরসহ বিভিন্ন হাসপাতালে বাড়ছে নারী, শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা। চিকিৎসকদের মতে, তীব্র ঠান্ডা ও সচেতনতার অভাবে গ্রামীণ নারীরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন চর্মরোগে।
চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মাহফুজা জাকিয়া বলেন,
“প্রতিবছর শীত মৌসুমে পঞ্চগড়ে নারীদের চর্মরোগের সংখ্যা বেড়ে যায়। বিশেষ করে গ্রামীণ শ্রমজীবী নারীরা চুলকানি, হাত-পা ফাটা ও ত্বকের নানা সমস্যায় ভোগেন। সামর্থ্যের অভাবে তারা ময়েশ্চারাইজার বা প্রয়োজনীয় যত্ন নিতে পারেন না। নারিকেল তেল বা ত্বক নরম রাখার উপকরণ ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। তবে সমস্যা বেশি হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।”
এ অবস্থায় শীতার্ত শ্রমজীবী নারীরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা শীতবস্ত্র বিতরণ, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।


