অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) দ্বাদশ আসরের পর্দা উঠল জমকালো আয়োজন ও রোমাঞ্চকর ক্রিকেটে। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী ম্যাচে শান্ত–মুশফিকের ব্যাটিং মহাকাব্যে সিলেট টাইটানসকে ৮ উইকেটে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
সিলেটের লড়াকু সংগ্রহ
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় সিলেট টাইটানস। ইনিংসের শুরুতেই আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট চালান সাইম আইয়ুব। তবে ২৮ রানে বিনুরা ফার্নান্দোর বলে বিদায় নেন তিনি। এরপর আফগান ওপেনার হজরতুল্লাহ জাজাই ২০ রানে স্টাম্পিং হয়ে ফেরেন।
রান তোলার দায়িত্ব নেন রনি তালুকদার। সাবলীল ব্যাটিংয়ে ৪১ রান করলেও সন্দীপ লামিচানের বলে বোল্ড হয়ে থামেন তিনি। এরপর পারভেজ ইমন ও আফিফ ধ্রুবের দৃঢ়তায় আবার ঘুরে দাঁড়ায় সিলেট।
পারভেজ ইমন ৩৩ বলে ঝলমলে ৬৫ রান করে ইনিংসের গতি বাড়ান। অন্যদিকে আফিফ ধ্রুব ৩৩ রান করে রানআউটে কাটা পড়েন। নির্ধারিত ২০ ওভারে সিলেট টাইটানসের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৯০ রান।
শান্ত–মুশফিকের রাজত্ব
১৯১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। মাত্র ৮ রানে তানজিদ তামিম ফিরে যান, এরপর শাহিবজাদা ২০ রান করে বিদায় নেন।
তবে এরপরই ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। দুজনের ব্যাটিংয়ে ছিল আত্মবিশ্বাস, নিয়ন্ত্রণ ও ক্লাসের নিখুঁত মিশেল। তৃতীয় উইকেটে তাদের অপরাজিত ১৩০ রানের জুটিতে সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় রাজশাহী।
অধিনায়ক শান্ত খেলেন অনবদ্য শতক—৬০ বলে অপরাজিত ১০১ রান। ইনিংসে ছিল চমৎকার টাইমিং ও ম্যাচ জয়ের দৃঢ়তা। অন্যপ্রান্তে মুশফিকুর রহিম ৩১ বলে করেন দায়িত্বশীল ৫১ রান। শান্তের এই ইনিংসেই ম্যাচসেরার পুরস্কার ওঠে তার হাতে।
জমকালো উদ্বোধনী আয়োজন
এর আগে বর্ণিল আয়োজনে বিপিএল দ্বাদশ আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। ২৫ হাজার বেলুন উড়িয়ে ও ডে-লাইট ফায়ার ওয়ার্কের মাধ্যমে শুরু হয় এবারের আসর।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান এগিয়ে যায়। এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়, যা পুরো স্টেডিয়ামকে আবেগঘন করে তোলে।
প্রত্যাশার নতুন দিগন্ত
উদ্বোধনী ম্যাচেই শান্ত–মুশফিকের এমন ব্যাটিং প্রদর্শনী এবং দর্শকভরা স্টেডিয়ামের উচ্ছ্বাসে স্পষ্ট—বিপিএল দ্বাদশ আসর হতে যাচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আবেগ ও বিনোদনে ভরপুর এক ক্রিকেট উৎসব।


