শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাকসু) দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন। ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ থাকলেও নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের হার ব্যাপকভাবে কম থাকায় তা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
মোট ১৯টি পদে ৯৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে মাত্র সাতজন নারী। প্রধান তিনটি পদ—ভাইস প্রেসিডেন্ট, জেনারেল সেক্রেটারি ও অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি—সহ ১৬টি পদে কোনো নারী প্রার্থী নেই। ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক পদে চারজন, আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক পদে একজন এবং সদস্য পদে দুজন নারী প্রার্থী রয়েছেন। এ অনুযায়ী, নির্বাচনে নারী প্রার্থীর হার মাত্র ৭.২১ শতাংশ।
নির্বাচনী প্যানেল অনুযায়ী, ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলে একজন নারী প্রার্থী রয়েছেন। ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলে তিনজন নারী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সম্বলিত ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেলে দুইজন নারী প্রার্থী রয়েছেন। প্যানেলের বাইরে ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক পদেও একজন নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
শাকসু নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, শুরুতে কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ১৫ জন নারী প্রার্থী মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন মাত্র সাতজন।
নারী প্রার্থীর কম অংশগ্রহণের বিষয়ে শাকসু নির্বাচনের মুখপাত্র অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “ছাত্রীরা পড়াশোনায় বেশি ব্যস্ত থাকেন। এছাড়া অতীত নির্বাচনে নারী প্রার্থীরা সাইবার বুলিং, স্লাট শেমিং এবং বিভিন্ন ধরনের হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এসব কারণে পরিবার থেকেও অনেক সময় ছাত্রীদের নির্বাচন করতে নিরুৎসাহিত করা হয়।”
বিশ্লেষকরা মনে করেন, শিক্ষার্থী সমিতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে শুধু উৎসাহ নয়, বরং নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।


