অনলাইন ডেস্ক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক অশোভন আচরণ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের মানসিক চিকিৎসার দাবি জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। একই সঙ্গে শিক্ষাবান্ধব ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার আহ্বান জানিয়ে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী ও সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল ইসলাম জানান, সোমবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। এরপর দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “একজন সচেতন শিক্ষার্থীর আচরণ কখনো এমন হতে পারে না। ক্যাম্পাসে সালাহউদ্দিন আম্মারের আচরণ দিন দিন উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। রাকসুর জিএস হিসেবে শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে কাজ করার কথা থাকলেও তিনি এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন, যা উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। ফলে তার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা সন্দিহান। এ কারণেই মানসিক চিকিৎসার দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে টাঙানো বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতির একটি ব্যানার খুলে ফেলেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার।
এর আগে একই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে উদ্দেশ করে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ব্যানার অপসারণের দাবি জানান এবং দুপুর ২টার মধ্যে তা না সরালে নিজেই ব্যবস্থা নেওয়ার আলটিমেটাম দেন। পরে ব্যানার খুলে ফেলার একটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি লেখেন, “দুপুর ২টার মধ্যে ব্যানার অপসারণ করতে বলেছিলাম। তা করা হয়নি। তাই শিক্ষার্থী হিসেবে নিজে ছিঁড়ে দিয়েছি। ক্যাম্পাসে দলীয় ব্যানারে রাজনীতির যত উপসর্গ দেখব, শিক্ষকদের ততই বিরোধিতা করব। শিক্ষক রাজনীতি শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে।”
এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জিয়া পরিষদ রাজশাহী জেলার সভাপতি ও আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন তালুকদার বলেন, “তার শক্তি আছে বলেই সে ব্যানার খুলে ফেলেছে। এর চেয়ে বর্বরোচিত ঘটনা আর কী হতে পারে। তারেক রহমান একজন দেশবরেণ্য নেতা, যিনি দেশের ঐক্যের প্রতীক। তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টার টাঙানোয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কী এমন ক্ষতি হয়েছে যে তা ছিঁড়ে ফেলতে হবে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল আশঙ্কা করছে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ব্যাহত হতে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।


