বাজবাড়ি প্রতিনিধি

People at an onion wholesale market in Dhaka, Bangladesh. The onion market in Bangladesh is currently experiencing significant volatility. The prices of onions almost doubled after Indian authorities declared an export embargo, which created a supply crunch in Bangladesh, causing the prices to almost double.
দেশের পেঁয়াজ উৎপাদনে তৃতীয় অবস্থানে থাকা রাজবাড়ী জেলা আবারও আলোচনায়। দেশের মোট চাহিদার প্রায় ১৫ শতাংশ পেঁয়াজের যোগান দেওয়া এই জেলায় হঠাৎ দরপতনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজের দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে।
দুই দিনে অর্ধেক দাম
বৃহস্পতিবার রাজবাড়ী সদর ও বালিয়াকান্দি উপজেলা-র বিভিন্ন হাটে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। অথচ দুই দিন আগেও একই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২ হাজার টাকায়। আকস্মিক এই দরপতনে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন চাষিরা।
লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ মেট্রিক টন
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ীতে চলতি মৌসুমে ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ হাজার হেক্টরে চাষ হয়েছে হালি পেঁয়াজ। চলতি বছরে ৬ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
‘মুড়িকাটা’র পর বাজারে ‘হালি’
বালিয়াকান্দি উপজেলার পেঁয়াজচাষী মো. রফিকুল ইসলাম মোল্লা জানান, রাজবাড়ীতে মূলত ‘মুড়িকাটা’ ও ‘হালি’—এই দুই ধরনের পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়। মুড়িকাটা শেষ হয়ে এখন বাজারে আসছে হালি পেঁয়াজ।
তিনি বলেন, “মঙ্গলবার মাশালিয়া হাটে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার টাকায়। আজ সকালে সেই দাম নেমে এসেছে ১ হাজার ১০০ টাকায়। ভয়াবহ দরপতনে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।”
সিন্ডিকেটের অভিযোগ
রাজবাড়ী সদর উপজেলার কৃষক হামিদ ব্যাপারীর অভিযোগ, পেঁয়াজের বাজারে সিন্ডিকেট সক্রিয়। “ঢাকা থেকে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হয়। উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় প্রতি বিঘায় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতি হচ্ছে। দাম কমে যাওয়ায় অনেকেই পেঁয়াজ বাজারে না পাঠিয়ে ফেরত নিয়ে যাচ্ছেন,” বলেন তিনি।
ব্যবসায়ীদের যুক্তি
মাশালিয়া বাজারের ব্যবসায়ী শেখর দাস বলেন, “আমরা প্রতি মণ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় পেঁয়াজ কিনছি। পরিবহন খরচ ও অন্যান্য ব্যয়ের কারণে খুচরা বাজারে দাম বেশি পড়ছে। সরকারের উচিত স্থানীয় হাট-বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে উদ্যোগ নেওয়া।”
আমদানি বন্ধের দাবি
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. শাহিদুল ইসলাম বলেন, মৌসুমের শুরুতে দাম কিছুটা কম থাকে, তবে ২ হাজার টাকার নিচে নামলে কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন। তিনি মৌসুম চলাকালে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখার দাবি জানান।
দ্রুত দরপতনের এই পরিস্থিতিতে রাজবাড়ীর কৃষকরা সরকারের হস্তক্ষেপ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা চান। না হলে উৎপাদন খরচ না উঠলে আগামী মৌসুমে আবাদ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা।


