বিশেষ প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ত্রিমুখী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডাইভারশন ও ইউটার্ন বৃদ্ধি, দেশীয় প্রযুক্তির সেমি-অটোমেটেড ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন এবং পথচারীদের জন্য সিগন্যালযুক্ত জেব্রা ক্রসিং চালুর মাধ্যমে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমন্বিত এই উদ্যোগে ইতোমধ্যে রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যান চলাচলে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে।
৭৫টি পয়েন্টে ডাইভারশন, গতি বেড়েছে যানবাহনের
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, মহানগরীতে মোট ১১০টি ট্রাফিক সিগন্যাল পয়েন্টের মধ্যে ৭৫টিতে ডাইভারশন বা ইন্টারসেকশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে চালকদের বাড়তি পথ ঘুরতে হলেও এতে সিগন্যালভিত্তিক দীর্ঘ অপেক্ষা কমেছে এবং যানজটের তীব্রতা হ্রাস পেয়েছে।
বিশেষ করে বিজয় সরণি, শাহবাগ, কাকলী, লাভ রোড ও ধোলাইপাড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ডাইভারশন চালুর পর যানবাহনের গতি বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগ। প্রয়োজনে আরও নতুন পয়েন্টে এ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
দেশীয় প্রযুক্তির আধুনিক সিগন্যাল
গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর সেমি-অটোমেটেড সিগন্যাল বাতি স্থাপন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আটটি পয়েন্টে এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে এবং আরও ১৭টিতে কাজ চলমান।
এই সিগন্যাল ব্যবস্থায় রয়েছে স্বয়ংক্রিয় ও ম্যানুয়াল—দুই ধরনের নিয়ন্ত্রণ সুবিধা। যানবাহনের চাপ অনুযায়ী সময় সমন্বয় করা যাচ্ছে, ফলে অপ্রয়োজনীয় লাল সংকেতের সময় কমানো সম্ভব হচ্ছে। ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম থেকেও প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে সিগন্যালের সময়সীমা।
সরেজমিন পর্যবেক্ষণে InterContinental Dhaka সংলগ্ন এলাকা, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, বাংলামোটর ও গুলশান এলাকায় নতুন সিগন্যাল ব্যবস্থার কার্যকারিতা লক্ষ্য করা গেছে। আগের তুলনায় যানবাহনের সারি ছোট হয়েছে এবং দ্রুত ছাড় পাচ্ছে গাড়ি।
পথচারীদের জন্য সিগন্যালযুক্ত জেব্রা ক্রসিং
যানবাহনের পাশাপাশি পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এই পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য। ইতোমধ্যে পাঁচটি জেব্রা ক্রসিংয়ে পৃথক সিগন্যাল বাতি বসানো হয়েছে। লাল সংকেতে যানবাহন থামবে এবং সবুজ সংকেতে পথচারীরা পারাপার করবেন।
ফুটপাতে স্থাপিত পুশ বাটন চাপলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সবুজ বাতি জ্বলে ওঠে। এতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে রাস্তা পারাপার কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। জেব্রা ক্রসিংয়ের দুই পাশে ৫০ মিটার করে বেড়া নির্মাণ করা হচ্ছে, যাতে নির্ধারিত স্থান ছাড়া কেউ রাস্তা পার না হন।
মিরপুর কলেজ, মিন্টো রোড, রামপুরা ও বাড্ডা এলাকায় পথচারীদের এই সিগন্যাল ব্যবহার করতে দেখা গেছে। পর্যায়ক্রমে রাজধানীর সব গুরুত্বপূর্ণ জেব্রা ক্রসিংয়ে এ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
সমন্বিত বাস্তবায়ন
এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)-এর সমন্বয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও দুই সিটি করপোরেশন। বুয়েট প্রযুক্তিগত নকশা সহায়তা দিচ্ছে এবং সিটি করপোরেশন অবকাঠামোগত কাজ বাস্তবায়ন করছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান জানান, ডাইভারশন, আধুনিক সিগন্যাল ও নিয়ন্ত্রিত পারাপার—এই তিনটি পদক্ষেপ একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমার পাশাপাশি শৃঙ্খলাও ফিরে আসছে।
চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর সিগন্যাল ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর রাখতে হলে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও মনিটরিং জরুরি। পাশাপাশি চালক ও পথচারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে।
তবে সাম্প্রতিক পরিবর্তন রাজধানীবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। সমন্বিত পরিকল্পনা


