অনলাইন ডেস্ক

২০০৯ সালের ২৫–২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশ ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক ঘটনা, যেখানে সেনাবাহিনীর ৫৭ জন কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর এ ঘটনায় নতুন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) বিচার অনুষ্ঠিত হতে পারে কি না—এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম নতুন মন্তব্য করেছেন।
প্রসিকিউশনে অভিযোগ দাখিল
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানান যে বিডিআর হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত নতুন অভিযোগ প্রসিকিউশনের কাছে এসেছে। তিনি বলেন, এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই ও আইনি পর্যালোচনা করা হবে, এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা
অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। চিফ প্রসিকিউটর জানান, প্রসিকিউশন এ প্রতিবেদনও গভীরভাবে পর্যালোচনা করবে। যদি তদন্তে এমন উপাদান পাওয়া যায় যা মানবতাবিরোধী অপরাধের উপাদান পূরণ করে, তবে তা আইসিটিতে বিচারযোগ্য হবে।
মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা
চিফ প্রসিকিউটর বলেন—
-
যদি দেখা যায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডটি মানবতাবিরোধী অপরাধ (crimes against humanity) বা আন্তর্জাতিক আইনে সংজ্ঞায়িত গণঅপরাধের আওতাভুক্ত,
তাহলে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (ICT) বিচার হতে পারে। -
যদি অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধের মানদণ্ড পূরণ না করে, তবে
দেশের প্রচলিত আইনে বিচার চলবে বা নতুনভাবে মামলা করা হতে পারে।
চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য অনুযায়ী বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে নতুন আইনি পর্যালোচনার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন মূল্যায়নের পরই সিদ্ধান্ত হবে—এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার হবে কি না, নাকি অন্য আইনে বিচার প্রক্রিয়া চলবে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ হত্যাকাণ্ডের পুনর্বিবেচনা ও বিচার প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য নতুন ধাপ হিসেবে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।


