
পালাকার ও বয়াতি মহারাজ আবুল সরকারকে গ্রেপ্তার এবং মানিকগঞ্জে বাউলশিল্পীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কবি–চিন্তক ফরহাদ মজহার। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে বাউলদের নিয়ে পরবর্তী মহাসম্মেলন মানিকগঞ্জেই অনুষ্ঠিত হবে।
আজ সোমবার দুপুরে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে এ ঘোষণা দেন তিনি। আবুল সরকারের মুক্তির দাবি ও মানিকগঞ্জে বাউলদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সাধুগুরুভক্ত ও ওলি-আওলিয়া আশেকান পরিষদ এ সমাবেশের আয়োজন করে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফরহাদ মজহার বলেন,
“মানিকগঞ্জে যাঁরা নিরীহ বাউলদের পেটাচ্ছেন, পরবর্তী মহাসম্মেলনে আমি নিজে থাকব। আমাকে পেটালে পেটান, আমি পিটুনি খাব। আমরা প্রতিহিংসা করি না, তবে আপনাদের একটি শিক্ষা দিয়ে যাব।”
ফরহাদ মজহার বলেন, ‘আপনারা যেটাকে ইসলামের নামে চালাচ্ছেন, এর সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নাই। আপনি নিজে মনে করেন ঠিক, এটাই মনে করতেছেন কোরআনে আছে, এটাই ভাবতেছেন হাদিসে আছে। এগুলা নাই।’
সহিংসতা ইসলামের পথ নয় মন্তব্য করে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘যারা নিরীহ মানুষের ওপর জুলুম করে, সহিংসতা করে, তারা কখনোই রসুলের উম্মত হিসেবে নিজেকে দাবি করতে পারে না। ফলে আমি আপনাদের সকলকে অনুরোধ করব, আজ যেভাবে আমাদের ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে একটা শক্তিশালী ধর্মবাদী ফ্যাসিস্ট ধারা হামলা করছে, আমাদের সঙ্গে থাকুন, আমাদের সঙ্গে এই লড়াইটা চালিয়ে যান।’
রাজনৈতিক স্বার্থে বাংলাদেশকে বিশৃঙ্খল করার চেষ্টাকারীদের হুঁশিয়ার করে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘বাংলাদেশকে আরও গভীর গহ্বরে ফেলার জন্য চক্রান্ত করছেন, আপনারা সাবধান হয়ে যান। চক্রান্ত চিরদিন লুক্কায়িত থাকে না।’
তিনি বলেন, বাউল-ফকির, সাধুসন্তদের ওপর হামলা দেশের সহাবস্থান ও আধ্যাত্মিক সংস্কৃতির ওপর আঘাত। এ ধরনের দমন-পীড়ন বন্ধ না হলে বড় ধরনের সামাজিক ক্ষতি হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে আবুল সরকারের নিঃশর্ত মুক্তি, হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং বাউল সংস্কৃতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।


