নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকাই চলচ্চিত্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঈদ মৌসুমে অ্যাকশন, থ্রিলার ও ক্রাইম ঘরানার আধিপত্য দেখা গেলেও সেই ধারা থেকে কিছুটা ভিন্ন পথে হাঁটছে পরিচালক তানিম নূরের নতুন চলচ্চিত্র “বনলতা এক্সপ্রেস”। হুমায়ুন আহমেদের গল্প ‘কিছুক্ষণ’ অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমাটি পরিবারকেন্দ্রিক আবেগ ও মানবিক সম্পর্কের গল্পে দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে গেছে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতায়।
সিনেমাটি মূলত একটি ট্রেনযাত্রাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে, যেখানে কয়েকটি বগির ভেতরেই একাধিক চরিত্রের জীবনের টুকরো টুকরো গল্প একসূত্রে গাঁথা হয়েছে। ধীরগতির শুরু হলেও ইন্টারভালের পর গল্পটি ধীরে ধীরে আবেগঘন মোড় নেয় এবং শেষ পর্যন্ত দর্শকদের নিয়ে যায় এক ধরনের শান্ত, ফিলগুড অনুভূতির দিকে।
চরিত্র ও অভিনয়ের দিক থেকে বনলতা এক্সপ্রেস শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। মোশাররফ করিমকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে সিনেমার মূল আবহ। তার সংলাপ, অভিব্যক্তি ও আবেগপূর্ণ উপস্থিতি পুরো চলচ্চিত্রে একটি শক্ত ভিত তৈরি করেছে। শরিফুল রাজ, চঞ্চল চৌধুরী, জাকিয়া বারী মম, শ্যামল মাওলা, সাবিলা নূরসহ একাধিক তারকা অভিনয়শিল্পী নিজ নিজ জায়গায় স্বাভাবিক ও সংযত অভিনয় উপহার দিয়েছেন।
তবে কিছু জায়গায় স্ক্রিনটাইমের সীমাবদ্ধতা ও চিত্রনাট্যের কারণে কিছু চরিত্র পুরোপুরি উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারেনি বলে মনে হয়। বিশেষ করে কিছু সংলাপ ও নৈতিক বার্তা উপস্থাপনায় অতিরিক্ততা থাকলেও সামগ্রিকভাবে গল্পের প্রবাহে তা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।
চলচ্চিত্রটির আরেকটি বড় শক্তি হলো এর সঙ্গীত ও ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর। অর্থহীন ব্যান্ড, আইয়ুব বাচ্চুর কালজয়ী গান এবং অর্ণবের সুর মিলিয়ে পুরো সিনেমায় এক ধরনের নস্টালজিক আবহ তৈরি হয়েছে, যা দর্শকদের আবেগের সঙ্গে সহজেই সংযোগ স্থাপন করে।
সামগ্রিকভাবে, ধীর গতির শুরু সত্ত্বেও বনলতা এক্সপ্রেস একটি আবেগনির্ভর পারিবারিক চলচ্চিত্র হিসেবে শেষ পর্যন্ত দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়। পরিবার নিয়ে দেখার মতো একটি শান্ত, মানবিক গল্প হিসেবে সিনেমাটি আলাদা করে নজর কাড়ছে বলেই মত প্রকাশ করছেন দর্শক ও সমালোচকরা।
সংক্ষেপে: নস্টালজিয়া, আবেগ ও শক্তিশালী অভিনয়ের সমন্বয়ে বনলতা এক্সপ্রেস হয়ে উঠেছে পারিবারিক দর্শকদের জন্য এক স্বস্তিদায়ক সিনেম্যাটিক যাত্রা।


