
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে যখন গোটা দেশ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত, তখন সুযোগ নিচ্ছে মাদক কারবারিরা—এমন আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি একের পর এক মাদক চালান ধরা পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিশ্লেষকদের মধ্যে।
বাংলাদেশে ই-সিগারেট বা ভ্যাপের মাধ্যমে নতুন ধরনের মাদক প্রবেশ করছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ড। এ তথ্যের ভিত্তিতে গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর মিরপুরে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি)। অভিযানে একটি বাইসাইকেল আরোহী যুবককে আটক করা হয়। তার কাছে থাকা ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা হয় দুটি ভ্যাপ কার্টিজ।
আটক মেহেদী হাসান রাকিবকে নিয়ে পরবর্তীতে তার বাসায় অভিযান চালানো হলে আরও তিনটি কার্টিজ উদ্ধার করা হয়। পাঁচটি কার্টিজে মোট ৩৪০ মিলিলিটার তরল পাওয়া যায়। তদন্তে জানা যায়, এগুলো নতুন মাদক এমডিএমবি, যা মালয়েশিয়া থেকে দেশে এসেছে।
এর আগে গত ১১ জানুয়ারি রংপুরে ভেজাল মদ বা রেক্টিফাইড স্পিরিট পান করে সাতজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তদন্তে উঠে আসে, গাজীপুরের একটি কারখানায় তৈরি হয়েছিল ওই মদ। পরে অভিযানে ২ হাজার ২৭৮ লিটার স্পিরিটসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।
শুধু গাজীপুরেই নয়, ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে মদের কারখানার সন্ধান পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেখান থেকে প্রায় ২ হাজার লিটার দেশি-বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।
সবশেষ গত ৩ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারগামী একটি স্লিপার কোচ বাসের সিটের নিচ থেকে অভিনব কৌশলে লুকানো ইয়াবার চালান জব্দ করা হয়। একই দিনে উত্তরা এলাকায় পৃথক অভিযানে মোট প্রায় ৭০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার এবং ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়।
সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, মাদক কারবারিরা সবসময় বিভিন্ন কৌশলে দেশে মাদক ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনকেন্দ্রিক দায়িত্বে ব্যস্ত থাকায় এ সময় মাদক প্রবেশের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের নিয়মিত কার্যক্রম চালু রাখা এবং অভিযান আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিচালক (অপারেশন) মো. বশির আহমেদ জানান, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৯১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মাদক সংশ্লিষ্টতায় ৪ হাজার ২৯৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১ হাজার কেজি গাঁজা, ৬ লাখের বেশি ইয়াবা এবং নতুন মাদক এমডিএমবিসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে অন্যান্য বাহিনী ব্যস্ত থাকলেও মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে ডিএনসি সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
ডিএনসির এক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, গত ৬ জানুয়ারি থেকে বাহিনীর সব সদস্যের ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান চলবে।


