অনলাইন ডেস্ক

নির্বাচনকে সামনে রেখে যানবাহন চলাচলে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে রাজধানী ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায়। বাসের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় সকাল থেকেই বিভিন্ন অফিস এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যাত্রীদের তীব্র ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেক যাত্রী প্রয়োজনীয় বাস না পেয়ে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে রামপুরা, ফার্মগেট, শাহবাগ, মিরপুর-১০, যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাসের অপেক্ষায় যাত্রীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। মাঝেমধ্যে বাস এলেও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেক যাত্রী তাতে উঠতে পারেননি।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকায় তাদের বাসের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু বাস কম থাকায় অনেককে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অফিসে যেতে হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। মতিঝিল মডেল স্কুলের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে তাদের ক্লাস টেস্ট চলছে। কিন্তু বাস সংকটের কারণে নিয়মিত দেরি হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছেন, নির্বাচনকালীন নিষেধাজ্ঞা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে অনেক গাড়ি সড়কে নামানো যাচ্ছে না। তাদের ভাষ্য, চেকপোস্টে জটিলতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় অনেক চালক ও মালিক গাড়ি চালাতে অনীহা প্রকাশ করছেন। ফলে বাস কম থাকায় যাত্রীচাপ বেড়ে গেছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচন উপলক্ষে মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত টানা ৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ রয়েছে। এছাড়া ভোটগ্রহণের আগের দিন বুধবার মধ্যরাত থেকে ভোটের দিন বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় নগরবাসী বলছেন, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজধানীর ভেতরে গণপরিবহন স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। অন্যথায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।


