জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

দীর্ঘ দুই দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন শেষ হওয়ার প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর বুধবার গভীর রাতে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত ফলাফলে জকসু’র শীর্ষ তিন পদসহ অধিকাংশ পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন।
বুধবার রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে জকসু’র প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান কেন্দ্রীয় সংসদের ৩৮টি কেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফল ঘোষণা করেন। একই সময়ে নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী ছাত্রী হল সংসদের ফল ঘোষণা করেন হল প্রভোস্ট।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম জকসু নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি), জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস) ও অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি (এজিএস)—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে জয় পেয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল।
ভিপি পদে দিনভর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে ৫ হাজার ৫৫৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন শিবির সমর্থিত প্রার্থী মো. রিয়াজুল ইসলাম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের একেএম রাকিব পান ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট। দুই প্রার্থীর ভোট ব্যবধান ছিল ৮৭০টি।
জিএস পদে শিবির সমর্থিত আব্দুল আলীম আরিফ ৫ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের খাদিজাতুল কুবরা পান ২ হাজার ২২৩ ভোট। এজিএস পদে ৫ হাজার ২০ ভোট পেয়ে জয়ী হন ছাত্রশিবিরের মাসুদ রানা।
১১টি সম্পাদকীয় পদের মধ্যে ৮টিতে ছাত্রশিবির ও ৩টিতে ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থীরা জয় পান। এছাড়া ৭টি সদস্য পদের মধ্যে ৪টিতে ছাত্রশিবির, ২টিতে ছাত্রদল এবং ১টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
হল সংসদ নির্বাচনেও ছাত্রশিবিরের আধিপত্য দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হল সংসদের ভিপি, জিএস ও এজিএস—সব শীর্ষ পদেই জয়ী হয়েছেন শিবির সমর্থিত প্রার্থীরা।
এদিকে সংগীত বিভাগে ঘটে ব্যতিক্রমী ঘটনা। ওই বিভাগে জিএস ও এজিএস পদে শিবিরের প্রার্থীরা কোনো ভোটই পাননি। সেখানে ভিপি পদে ছাত্রদল সমর্থিত একেএম রাকিব বিপুল ভোটে এগিয়ে থাকেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে ওএমআর মেশিনে ভোট গণনার সময় ত্রুটি ধরা পড়ায় দীর্ঘ সময় গণনা স্থগিত থাকে, যা ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব ঘটায়।
জকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১৬ হাজার ৬৪৫ জন, যার মধ্যে আনুমানিক ৬৫ শতাংশ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। অন্যদিকে হল সংসদ নির্বাচনে ১ হাজার ২৪২ ভোটারের প্রায় ৭৭ শতাংশ ভোট পড়ে।
দুই দশকের বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


