বগুড়া প্রতিনিধি

দীর্ঘ দেড় যুগ পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক প্রত্যাশা। তাদের বিশ্বাস, তারেক রহমানের হাত ধরেই রাজনীতিতে আসবে গুণগত পরিবর্তন, সংস্কার হবে রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং বদলাবে সাধারণ মানুষের জীবনমান। এই প্রত্যাশা থেকেই তার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। তবে দেশের অন্য জেলার তুলনায় বগুড়ায় সেই আনন্দ ও আবেগ যেন আরও গভীর।
কারণ, বগুড়াই বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি। সেই ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের ধারাবাহিকতায় বাবার উত্তরসূরি তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বগুড়াবাসীর চোখে শুধু আনন্দ নয়, হৃদয়ে জাগিয়েছে নতুন আশার আলো। দীর্ঘ ১৭ বছরের বঞ্চনা, স্থবির উন্নয়ন ও অবহেলার ক্ষত মুছে যাওয়ার অপেক্ষায় পুরো জেলা।
দলের অভ্যন্তরে গোপন ব্যালটে নেতৃত্ব নির্বাচন পদ্ধতি পুনরায় চালু করে বগুড়াকে একসময় সাংগঠনিক মডেল জেলায় রূপান্তর করেছিলেন তারেক রহমান। সেই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ ১৯ বছর পর আগামী রবিবার (১১ জানুয়ারি) বগুড়া সফরে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। ঢাকার বাইরে এটিই হবে তার প্রথম সফর। সফরকে ঘিরে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে তার জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে একটি নিজস্ব আধুনিক অফিস, যার নকশা করেছেন বগুড়ার স্বনামধন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রকৌশলী।
বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন জানান, ১১ জানুয়ারি তারেক রহমান বগুড়ায় পৌঁছে রাতে অবস্থান করবেন। পরদিন ১২ জানুয়ারি (সোমবার) সকাল ১০টায় শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত গণদোয়ায় অংশ নেবেন। গণদোয়া শেষে তিনি শহরের সাতমাথা, তিনমাথা ও মাটিডালি হয়ে মহাস্থানে হযরত শাহ সুলতান বলখী মাহী সাওয়ার (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। পরে রংপুরের উদ্দেশে রওনা দেবেন।
তিনি আরও জানান, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর বগুড়া সফর করেছিলেন। দীর্ঘ ১৯ বছর ১৮ দিন পর আবার বগুড়ার মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছেন তিনি। তার আগমনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। এক নজর তাকে দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন হাজারো মানুষ।
বগুড়াবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে গত ১৭ বছরে জেলায় দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। উচ্চশিক্ষা শেষ করেও বহু তরুণ চাকরি পাননি, বেড়েছে বেকারত্ব। অন্য জেলার মানুষ চাকরি ও সুযোগ পেলেও বগুড়ার নাম শুনেই অনেক ক্ষেত্রে বঞ্চিত হতে হয়েছে। এই বাস্তবতায় বঞ্চিত বগুড়ার উন্নয়নের হাল ধরতে তারেক রহমানের আগমনকে আশার বার্তা হিসেবে দেখছেন তারা।
বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, তারেক রহমানের রাজনীতিতে অভিষেক ঘটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান গাবতলী উপজেলা থেকেই। গোপন ব্যালটে নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি বগুড়াকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করেন এবং দল গুছিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দেশের জন্য কাজ শুরু করেন। বিদেশে থেকেও তিনি জুলাই আন্দোলনকে বেগবান করেছেন।
বিএনপি সরকারের সময় বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন, বনানী-মাটিডালি সড়ক সম্প্রসারণ, বনানী ও সাবগ্রাম বাইপাস নির্মাণ, পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ এবং পৌরসভা সম্প্রসারণসহ নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়।
এছাড়া বগুড়া শহরতলীর শাকপালা এলাকায় তারেক রহমানের উদ্যোগে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন পার্কটি গত ১৭ বছরে অবহেলায় নষ্ট হয়ে যায়। বগুড়াবাসীর প্রত্যাশা, তার প্রত্যাবর্তনে পার্কটি আবারও নতুন রূপ পাবে। একইভাবে গাবতলীর কাগইলে তার স্বপ্নের ২০ শয্যার হাসপাতালটিও দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে, যা পুনরুজ্জীবনের অপেক্ষায়।
বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, “১৭ বছর ধরে বগুড়ায় উন্নয়ন থমকে ছিল। এখন তারেক রহমানের হাত ধরেই বগুড়ার উন্নয়ন আবার গতি পাবে।”
এদিকে বগুড়া শহরের নবাববাড়ীতে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে তারেক রহমানের জন্য নির্মিত আধুনিক অফিসের নকশাকার প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান জানান, জেলা বিএনপির নির্দেশনা অনুযায়ী অত্যাধুনিক ডিজাইনের অফিস প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।
সব মিলিয়ে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ও উন্নয়নের নতুন সূচনার প্রতীক হিসেবেই তারেক রহমানের আগমনকে দেখছেন বগুড়াবাসী। তাদের প্রত্যাশা—এই সফর শুধু আবেগ নয়, বগুড়ার জন্য বয়ে আনবে বাস্তব পরিবর্তনের পথচলা।


