প্রতিবেদক, রাজবাড়ী

রাজবাড়ী, শনিবার (২৮ মার্চ): জ্বালানি তেলের অপ্রতুলতা ও অতিরিক্ত চাহিদার কারণে রাজবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা। কোথাও তেল না পেয়ে, কোথাও আবার দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে এক মোটরসাইকেল চালকের ১৫ কিলোমিটার পথ ঠেলে বাড়ি ফেরার ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, শুক্রবার ছুটির দিনে জরুরি কাজে বের হয়ে বিপাকে পড়েন হৃদয় নামের এক মোটরসাইকেল চালক। তার মোটরসাইকেলে তেল কম থাকায় তিনি একটি ফিলিং স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তবে পাম্প থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে থাকতেই তার মোটরসাইকেলের তেল শেষ হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে ঠেলে পাম্পে পৌঁছালেও সেখানে তেল না থাকায় শেষ পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ ঠেলে রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোপালবাড়ী এলাকায় নিজের বাড়িতে ফিরে যেতে হয় তাকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ীর অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে তেল সংকটের কারণে চালকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কোথাও তেল এলে মুহূর্তেই শেষ হয়ে যাচ্ছে, ফলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই তেল পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে চালকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।
রাজবাড়ী ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি পাম্প থেকে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। একই চিত্র দেখা গেছে সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় এলাকার একাধিক পাম্পেও।
প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূর থেকে তেল নিতে আসা নাজমু হুদা জানান, দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ২০০ টাকার তেল পেয়েছেন তিনি। অথচ যাওয়া-আসাতেই ৫০ টাকার বেশি তেল খরচ হয়ে গেছে। এতে করে দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
গোয়ালন্দ মোড়ের একটি ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার ওমর ফারুক বলেন, ঈদের সময় গ্রামে মানুষের আগমন বাড়ায় যানবাহনের চাপও বেড়েছে, ফলে তেলের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি জানান, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন যেখানে ৫০০ থেকে ৫৫০ লিটার তেল বিক্রি হতো, ঈদের সময়ে তা সর্বোচ্চ ১ হাজার লিটার পর্যন্ত যেত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে একদিনেই প্রায় ২ হাজার লিটার তেল বিক্রি হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই, তবে চাহিদা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, অতিরিক্ত তেল কোথায় যাচ্ছে—এ বিষয়টি খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত সরবরাহ বাড়ানো ও তদারকি জোরদার না করলে সংকট আরও প্রকট হতে পারে।


