মহানগর ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতার ছাপ পড়েছে। বিএনপি যদি সংবিধান সংশোধনী পরিষদের শপথ না নেয়, তাতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে এনসিপির মিডিয়া সেলের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের সংসদ সদস্যরা সংসদ ভবনে বৈঠকে বসবেন। বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হবে যে তারা শপথ গ্রহণ করবেন কি না।
এনসিপি সূত্র জানায়, “১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা সংসদ ভবনে বৈঠকে বসবেন কিছুক্ষণের মধ্যে, এবং সেখানে শপথ গ্রহণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
এর আগে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের সংবাদ মাধ্যমে জানান, “বিএনপি যদি সংবিধান সংশোধনী পরিষদের শপথ গ্রহণ না করে, তবে অভ্যুত্থানের পর যে সংস্কার আকাঙ্খা রয়েছে তা ব্যাহত হবে। আমরা জুলাইয়ের চেতনা সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর। বিএনপি যদি সংবিধান সংশোধনী পরিষদের শপথ না নেয়, তবে আমাদের কোনো এমপি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করবে না। এটাই আমাদের স্থির সিদ্ধান্ত।”
সংসদ সচিবালয় আজ নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি রেখেছিল। তবে বিএনপি পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না বলে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে।
কক্সবাজার–১ আসনের বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ শপথ গ্রহণের আগে বলেন, “সংবিধান সংশোধনী পরিষদের শপথ ফরম থাকলেও আমরা কেউ সংবিধান সংশোধনী পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি। এছাড়া সংবিধানে এটিকে এখনও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংবিধান সংশোধনী পরিষদে বিএনপির শপথ না নেওয়ায় পার্লামেন্টের কার্যক্রম ও সংস্কার প্রক্রিয়ায় জটিলতা দেখা দিতে পারে।


