
বাণিজ্য ডেস্ক : গাড়ির মালিকেরা ভালোই জানেন, একবার কোনো দুর্ঘটনায় গাড়ির সামান্য ক্ষতিও মেরামত করতে বেশ খরচ হয়। অনেক সময় সেই খরচ কয়েক হাজার থেকে লাখ টাকায় গড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে বিমা একটি বড় সহায়ক হতে পারে।
বর্তমানে দেশে গাড়ির জন্য বিমা করা বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ আইনগতভাবে কোনো মালিকের গাড়ি বিমা না থাকলেও তা চলবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমা বাধ্যতামূলক না হলেও গাড়ির মালিকের নিজের স্বার্থেই বিমা করা উচিত। কারণ, গাড়ির যেকোনো দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ বা সম্পদের ক্ষতিপূরণের দায় শেষ পর্যন্ত গাড়ির মালিককেই নিতে হয়।
বিমার মূল উদ্দেশ্যই হলো ঝুঁকির বিপরীতে আর্থিক সুরক্ষা দেওয়া। মোটর বিমা থাকলে দুর্ঘটনা, আগুন, চুরি, কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতির ক্ষেত্রে মালিক আর্থিক সহায়তা পান। এতে ব্যক্তিগত ক্ষতি কমে আসে, পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ের সুযোগও তৈরি হয়, কারণ বিমা কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম থেকে সরকার কর ও ফি আদায় করে।
বিমা খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাংলাদেশে এখনো অনেক গাড়ির মালিক বিমার গুরুত্ব বুঝে উঠতে পারেননি। তারা মনে করেন, দুর্ঘটনা হয়তো হবে না, তাই বিমা করাও অপ্রয়োজনীয় খরচ। কিন্তু বাস্তবে প্রতিদিন দেশের সড়কে ঘটছে ছোট-বড় অসংখ্য দুর্ঘটনা, যার ফলে অনেক মালিক বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
তাঁদের মতে, সচেতনতা বাড়ানো গেলে এবং বিমা প্রক্রিয়া সহজ করা হলে গাড়ির মালিকেরা এতে আগ্রহী হবেন। এতে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সরকারের জন্যই উপকার বয়ে আনবে।
বিমা শুধু কাগুজে সুরক্ষা নয়—এটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার একটি কার্যকর উপায়। তাই আইন বাধ্যতামূলক না করলেও দায়িত্বশীল গাড়িমালিকদের স্বেচ্ছায় মোটর বিমার আওতায় আসা উচিত।


