কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামে তীব্র শীত ও ঠান্ডার কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। আজ (৮ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীতের তীব্রতায় রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কাঁপুনি বেড়েছে, সূর্যের দেখা মিলছে না, ফলে বিশেষ করে চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যের সঙ্গে আরও ভোগান্তিতে পড়েছে।
রাজারহাট সদর উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের রুবেল মিয়া জানিয়েছেন, শীতের কারণে তিনি সকাল বেলা রিকশা নিয়ে কাজ করতে পারছেন না, যা তার সংসার চালাতে অসুবিধা তৈরি করছে। সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের বাবু মিয়া বলেন, নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। যাত্রাপুর ইউনিয়নের কালির আলগার চরের মো. মিন্টু মিয়া জানিয়েছেন, ঠান্ডায় ঘর থেকে বের হতে পারছেন না, কাজ না করলে পেটে ভাত যায় না, আর বাইরে গেলে হাত-পা জ্বালাপোড়া হয়ে কাজ করা কঠিন।
সদর হাসপাতালের রোগী খায়রুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত ঠান্ডায় তার ছেলের কয়েকদিন ধরে ডায়রিয়া শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেছেন, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে; কিছু রোগী আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন, আবার কিছু ভর্তি হচ্ছেন।
কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, আজ সকালে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। জেলা শাখার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, জেলার ৯টি উপজেলায় ২৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলছে এবং নগদ ৪০ লক্ষ টাকা মজুত রয়েছে।


