
কক্সবাজারের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)–১৫–এর চার শতাধিক কর্মকর্তা ও সদস্যকে বদলি করেছে র্যাব সদর দপ্তর। ১৯ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত ধাপে ধাপে এসব বদলি কার্যকর করা হয়। ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল ইসলামকেও তিন দিন আগে রাজধানীর র্যাব সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
র্যাবের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ব্যাটালিয়নের বহু সদস্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় এই ব্যাপক বদলি প্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হয়। বিষয়টি অভ্যন্তরীণ তদন্তেও গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতেই রদবদল
র্যাব–সদর দপ্তরের সূত্র জানায়, সম্প্রতি কক্সবাজার অঞ্চলে অস্ত্র–মাদক চক্র, চাঁদাবাজি, মানব পাচার, রোহিঙ্গা শিবিরসংক্রান্ত অপরাধ এবং সীমান্তঘেঁষা এলাকার নানা অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে র্যাব–১৫–এর বেশ কিছু সদস্য নজরদারির আওতায় ছিলেন।
তদন্তে একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের তথ্য পাওয়া যায়। পরে পুরো ব্যাটালিয়নেই কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয় যাতে নিয়মনীতি পুনর্বহাল এবং কার্যক্রম স্বচ্ছ রাখা যায়।
গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের নিরাপত্তা
মিয়ানমার সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় কক্সবাজার দেশের অন্যতম সংবেদনশীল এলাকা। সমুদ্রপথে মাদক পাচার, মানব পাচার এবং রোহিঙ্গা সংকট সামলাতে ২০১৮ সালে এখানে বিশেষায়িত র্যাব–১৫ ব্যাটালিয়ন গঠন করা হয়।
অন্যান্য ব্যাটালিয়ন যেখানে একাধিক জেলার দায়িত্ব পালন করে, সেখানে র্যাব–১৫ পুরো ব্যাটালিয়ন হিসেবে শুধু কক্সবাজারেই নিয়োজিত। ফলে এই এলাকায় অসদাচরণ বা অনিয়মের ঘটনায় তড়িৎ পদক্ষেপ নেওয়াকে নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠনের একটি প্রয়োজনীয় ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষায় কঠোর র্যাব সদর দপ্তর
র্যাবের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,
“অভিযোগের সত্যতা পেলে কোনো সদস্যকেই ছাড় দেওয়া হয় না। কক্সবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অনিয়মের সুযোগ নেই। তাই দায়িত্বে থাকা সদস্যদের ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, এই বদলি শুধু শাস্তিমূলক নয়, বরং ব্যাটালিয়নের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও পেশাদার করতে নতুন করে দল সাজানোর অংশ।
নতুন কর্মকর্তারা দায়িত্ব নেবেন শিগগিরই
বদলি হওয়া সদস্যদের স্থলে দেশের বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন থেকে নতুন সদস্য পাঠানো হচ্ছে। র্যাব সদর দপ্তর জানিয়েছে, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই নতুন টিম দায়িত্ব গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ নজরদারি আরও শক্তিশালী করা হবে বলে জানা গেছে।


