অনলাইন ডেস্ক

সংযুক্ত আরব আমিরাতের চাকরির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণ। এতে দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংক্রান্ত দক্ষতা এখন আর অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না; বরং প্রাথমিক বাছাই তালিকায় জায়গা পাওয়ার ক্ষেত্রে এটি সরাসরি প্রভাব ফেলছে। অনেক ক্ষেত্রেই এআই দক্ষতার অভাব থাকলে প্রার্থীরা শুরুতেই বাদ পড়ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে আমিরাতের চাকরির বিজ্ঞাপন ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিনির্ভর কাজের উল্লেখ দ্রুত বেড়েছে। এমনকি যেসব পদ ঐতিহ্যগতভাবে প্রযুক্তিভিত্তিক নয়, সেখানেও এখন স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রক্রিয়া উন্নয়ন সংক্রান্ত সক্ষমতার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতি দশটি চাকরির বিজ্ঞাপনের প্রায় একটিতে স্বয়ংক্রিয় বা প্রযুক্তিনির্ভর কাজের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
নিয়োগ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গত এক বছরে নিয়োগদাতাদের ভাষা ও চাহিদায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এখন শুধু অভিজ্ঞতা বা পদবির দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে না, বরং প্রার্থী কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে কাজের গতি, মান ও দক্ষতা বাড়াতে পারে—সেটিই হয়ে উঠেছে মূল বিবেচ্য বিষয়। এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, অর্ধেকের বেশি নিয়োগদাতা জানিয়েছেন, প্রাথমিক বাছাইয়ের সময় এআই ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপেও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। প্রার্থী খোঁজা, জীবনবৃত্তান্ত যাচাই ও প্রাথমিক筛筛 (স্ক্রিনিং) পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রেই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে যেসব প্রার্থীর এ বিষয়ে ধারণা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা আছে, তারা স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে থাকছেন।
অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে, অঞ্চলের অধিকাংশ পেশাজীবী এখন নিয়মিতভাবে কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছেন। এর মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা ও কাজের মান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর প্রভাবেই নিয়োগদাতাদের কাছে এআই দক্ষতা এখন আর বাড়তি কিছু নয়; বরং একটি মৌলিক প্রত্যাশায় পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে প্রার্থীদের কেবল অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করলে চলবে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ও প্রযুক্তিনির্ভর কাজের সক্ষমতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারলেই বাছাই তালিকায় জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
তথ্য সূত্র: খালিজ টাইমস


