অনলাইন ডেস্ক

কোনো উপমাই যেন যথেষ্ট নয়। মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য আজীবন সংগ্রাম-লড়াই, জেল-জুলুম ও অবর্ণনীয় নির্যাতন সয়ে বেগম খালেদা জিয়া হয়ে উঠেছিলেন কোটি বাংলাদেশির প্রিয় নেত্রী। অনেকের কাছে তিনি ছিলেন স্বদেশেরই প্রতিচ্ছবি। সেই সংগ্রামী নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে রাজধানী ঢাকায় নেমে আসে মানুষের ঢল—জনাকীর্ণ মেট্রোপলিটন পরিণত হয় এক বিশাল জনসমুদ্রে।
দেশভরা ভালোবাসা আর গভীর শ্রদ্ধা নিয়ে অনন্তের পথে যাত্রা করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। অগণিত মানুষের চোখের জল আর শ্রদ্ধার সবটুকুই পেয়েছেন তিনি। যে দেশের জন্য তিনি জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, সেই দেশও দিয়েছে তার যোগ্য সম্মান।
বুধবার বেলা ৩টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত জানাজায় কানায় কানায় ভরে ওঠে মাঠ। জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের প্রাঙ্গণ ও পুরো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ছাড়িয়ে আশপাশের সব সড়ক, অলিগলি থেকে লাখো মানুষ জানাজায় অংশ নেন। জানাজায় নারীদের অংশগ্রহণের জন্য রাখা হয় বিশেষ ব্যবস্থাও।
শেষ পর্যন্ত জানাজার কাতার মূল ভেন্যু ছাড়িয়ে কারওয়ান বাজার, আগারগাঁও, ধানমন্ডি ও বিজয় সরণি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে পড়ে।
জানাজার আগে পরিবারের পক্ষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন,
“আমি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান। এখানে উপস্থিত সকল ভাই ও বোনদের কাছে অনুরোধ—মরহুমা জীবিত থাকাকালীন যদি আপনাদের কারো কাছ থেকে কোনো ঋণ নিয়ে থাকেন, দয়া করে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আমি ইনশাআল্লাহ তা পরিশোধের ব্যবস্থা করবো। একই সঙ্গে উনার কোনো কথা বা ব্যবহারে যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে মরহুমার পক্ষ থেকে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী। দোয়া করবেন, আল্লাহ তাআলা যেন উনাকে বেহেশত নসিব করেন।”
জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাম পাশে দাঁড়ান তারেক রহমান। এরপর পর্যায়ক্রমে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং নির্বাচন বিশেষজ্ঞ বদিউল আলম মজুমদার।
অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টার ডান পাশে ছিলেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তার পাশে দাঁড়ান জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। এরপর সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
রাষ্ট্র, রাজনীতি ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা পরিণত হয় বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ও আবেগঘন বিদায় মুহূর্তে—যেখানে শোক, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।


