বুধবার, জুলাই ৮, ২০২৬

অধ্যাদেশ জারি : গুমের সাজা যাবজ্জীবন, হতে পারে ফাঁসিও

পাঠক প্রিয়

নিজস্ব প্রতিবেদক 

গুম (অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, আটক, অপহরণ বা স্বাধীনতা হরণ — পরে তার অস্তিত্ব, অবস্থান বা পরিণতি গোপন করা) একটি ফৌজদারী অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত হয়েছে।

গুমের জন্য সাজা: যদি গুম হয় কিন্তু মৃত্যু না ঘটে — জীবন বিচার (জেবজ্জীবন কারাদণ্ড) বা অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ঊর্ধ্বে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা

যদি গুমের ফলে মৃত্যু ঘটে, বা গুম-এর ৫ (বা ৭) বছর পরেও ব্যক্তির কোনও খোঁজ না পাওয়া যায় — সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১ কোটি টাকা জরিমানা

গোপন আটককেন্দ্র স্থাপন বা ব্যবহার (যেমন “আয়নাঘর”) — Seven years কারাদণ্ড ও জরিমানা; প্রমাণ নষ্ট বা গুম-সম্পর্কিত প্রমাণ মুছলে সর্বোচ্চ ৭ বছরের সাজা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা কমান্ডার যারা গুমের আদেশ, অনুমতি, নির্দেশ, অনুমোদন অথবা নীরব সম্মতি/অগ্রাহ্য ইত্যাদিতে যুক্ত — তাদেরও মূল অপরাধের মতোই দণ্ড দেওয়া হবে।

গুম-সংক্রান্ত অভিযোগের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, এবং অভিযোগ গঠনের ১২০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করতে বাধ্য হবে। ভুক্তভোগী, তথ্যদাতা ও সাক্ষীর নিরাপত্তা, ক্ষতিপূরণ, আইনগত সহায়তা এবং পুনর্বাসনের জন্য সুযোগ রাখা হয়েছে।

কেন এই আইন গুরুত্বপূর্ণ

  • এই অধ্যাদেশ দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক আইন, কারণ প্রথমবার গুমকে “চলমান অপরাধ” হিসেবে ফৌজদারী ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

  • গোপন আটককেন্দ্র বা “আয়নাঘর”-র মতো গোপন রাখার প্রক্রিয়া এবং গুমকে অস্বীকার করার প্রথা বন্ধ করার জন্য আইনগত রূপ দেওয়া হয়েছে।

  • বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল + ১২০ দিনের সময়সীমা + জামিন ও আপস অযোগ্য অপরাধ হিসেবে আমলে নেওয়া হয়েছে, যাতে বিচার প্রক্রিয়া কার্যকর হয়।

  • একই সাথে, ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে দায়ী করা হয়েছে—‘কমান্ড বা নিয়ন্ত্রক দায়িত্ব’ প্রণীত হয়েছে।

উদ্বেগ ও সমালোচনা

  • কিছু মানবাধিকার সংগঠন এবং আইন-বিশেষজ্ঞ বলছেন, এই আইন কিছু দিক থেকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে তৈরি হয়নি। যেমন, আদেশদাতা না হলেও ‘নীরব সম্মতি’ বা ‘অগ্রাহ্য/অদক্ষতা’র কারণে দায়িত্বোপলব্ধ রাখাটা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী প্রত্যাশিত নয়।

  • বিচার in absentia (অন্তAbsent উপস্থিত না থাকলেও বিচারের সুযোগ) এবং মৃত্যুদণ্ডের বিধান — যা একাংশের মতে মানবাধিকার ও ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

  • অনেকে আবার প্রশ্ন করেন, শুধুমাত্র আইন তৈরি করলেই হবে না—প্রয়োগ, স্বচ্ছতা, স্বাধীন তদন্ত, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

প্রেক্ষাপট

  • ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট International Convention for the Protection of All Persons from Enforced Disappearance-তে বাংলাদেশ যোগ দেয়। গত ৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে উপদেষ্টা পরিষদ এই অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।

  • ১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে গেজেট হিসেবে আইন প্রণীত হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান, নাকি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সূচনা?

সুফি সাগর সামস বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের সংঘাতমুখী রাজনীতি, ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে প্রতিশোধের সংস্কৃতি,...

শিরোনাম: চীন-মিয়ানমার করিডরে যুক্ত হলে ২৪ ঘণ্টায় চীনে পৌঁছাবে বাংলাদেশের পণ্য: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডরে বাংলাদেশ যুক্ত হলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাকে করে বাংলাদেশ থেকে চীনে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী...

জাবির বাজেট ৩৪৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা, গবেষণায় বরাদ্দ শূন্য

স্টাফ রিপোর্টার | জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩৪৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট। শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায়...

বিশ্বকাপ জিতবে রোনালদোর পর্তুগাল’—ঘানার পুরোহিতের চাঞ্চল্যকর দাবি

স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এক চাঞ্চল্যকর ও বিতর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন ঘানার আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব নানা কোয়াকু বোনসাম। তার দাবি, আগামী বিশ্বকাপে...

বিয়েতে ১০০ জনের বেশি অতিথি হলে অতিরিক্ত জনপ্রতি ১ হাজার টাকা ট্যাক্সের প্রস্তাব

অনলাইন ডেস্ক ঢাকা: বিয়ের অনুষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি অতিথি হলে অতিরিক্ত প্রত্যেক অতিথির জন্য এক হাজার টাকা করে সরকারি ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের...

জনপ্রিয় সংবাদ