
নিজস্ব প্রতিবেদক : মিতা তখন খুব ছোট। একদিন তিনি জানতে পারেন যে তাঁর বাবা, মাহাবুল ইসলাম, হারিয়ে গেছেন। পরিবারের সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর জানা যায়, তাঁর বাবা ঢাকায় আছেন এবং সেখানে রিকশা চালাচ্ছেন। মাহাবুল ইসলাম বার্তাবাহকের মাধ্যমে মিতাদের ঘরোয়া চিন্তা-ভাবনা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ঢাকায় গিয়ে কোথায় থাকবেন বা কী করবেন—কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তাই তিনি কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। প্রথমে তিনি মাথার নিচে একটি কাপড়চোপড়ের ব্যাগ রেখে এখানে-সেখানে ঘুমাতেন এবং পরে রিকশা চালানোর সুযোগ পান।
মিতা যখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছিলেন, তখন তাঁর বাবা হঠাৎ ঢাকা ছেড়ে গ্রামে ফিরে আসেন। তাঁদের বাড়ি বাঘা উপজেলার চকনারায়ণপুর গ্রামে। সেখানে মাহাবুল ইসলাম বাজারে একটি ছোট চায়ের দোকান খোলেন, যেখানে বিস্কুট ও কোলা বিক্রিও শুরু করেন। এই চায়ের দোকানই বর্তমানে মিতাদের একমাত্র আয়-উৎস। তবুও এটি দিয়ে সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন। সংসারের প্রয়োজন মেটাতে বাবা বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নেন এবং মাসে মাসে সেই ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেন।
মিতার পরিবার আজও সীমিত আয়ের সঙ্গে সংগ্রাম করে চলেছে, এবং তাদের আর্থিক নিরাপত্তা এখনও নিশ্চিত হয়নি।


