
১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজরা বঙ্গ প্রদেশের নবাব সিরাজদ্দৌলাকে পরাজিত করে বাংলায় ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠা করে। সম্রাট শাহ আলম ইংরেজদের সঙ্গে সন্ধি করেছিল। সন্ধি স্থাপনের পর গোটা ভারত সাম্রাজ্যের প্রকৃতি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এক. ইংরেজদের পক্ষ অবলম্বন করা, দুই. ইংরেজদের বিপক্ষে লড়াই করে মৃত্যুবরণ করা।
এরূপ ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে ইসলামি অস্থায়ী সরকারের প্রধান সাইয়্যেদ আহমেদ বেরলভি (র) এর নেতৃত্বে ইংরেজদের বিরুদ্ধে অবিচল থাকেন রোহিলা খন্ডের পাঠান সর্দারবৃন্দ, মারাঠার বিভিন্ন দল ও মহিশুরের সুলতান ফতেহ আলী খান টিপু। বালাকোটে সাইয়্যেদ আহমেদ (র) এর শাহাদাতের পর ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছিল।
১৮০৩ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশবাহিনী মুসলিম ভারতের প্রাণকেন্দ্র দিল্লী দখল করে নেয়। দিল্লী দখল করে তারা ঘোষণা করেছিল যে, এখন থেকে ভারতবর্ষের শাসনতান্ত্রিক নীতি হবে, ‘সৃষ্টি স্রষ্টার, সাম্রাজ্য সম্রাটের আর কর্তৃত্ব থাকবে ইস্ট-ইন্ডয়া কোম্পানী বাহাদুরের’। ব্রিটিশের ওই ঘোষণার পর হযরত শাহ আব্দুল আজিজ দেহলভী (র) ঘোষণা করেন যে, ‘এখন থেকে ভারতবর্ষ আর দারুল ইসলাম নয়, বরং দারুল হরব। আগ্রাসী শক্তিকে রুখে দাঁড়ানো এবং যিহাদে অংশগ্রহণ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয’।
১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের পর ইংরেজ লেখক এডওয়ার্ড থমাসের মতে, শুধুমাত্র দিল্লীতেই ৫০০ আলিমকে ফাঁসি দেয়া হয়েছিল। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের ১৮ নভেম্বর দিল্লীর জামে মসজিদের আঙ্গিনায় এক দিনে প্রায় ২৭ হাজার মুসলিমকে হত্যা করেছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকরা। ইংরেজরা মুসলিমদের যখন হত্যা করত, তখন শুকরের চামড়ার মধ্যে পুরে সেলাই করে দিত এবং হত্যার পূর্বে শুকরের চর্বি গায়ে মাখিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিত।
লেফটেন্যান্ট মান্ডাজীর লিখেছিলেন, একজন মুসলিম সিপাহীর মুখমন্ডল সংগীনের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত করা হয়, অতঃপর তাকে অল্প আগুনে ভুনা করা হয়। জ্বলন্ত মানুষের দুর্গন্ধে আমার মাথা ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। খাজা হাসান নিজামী লিখেছেন, হাজার হাজার মুসলিম নারী ইংরেজদের পৈশাচিক নির্যাতনের ভয়ে নিজেদেরকে কূপে নিক্ষেপ করে আত্মহত্যা করেছিল। অনেক পুরুষ পরিবারের সম্ভ্রম রক্ষার তাগিদে নিজের স্ত্রীকে হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যা করেছিল।
দিল্লীর অলিগলি হত্যাকান্ডের লীলাক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। ঘরবাড়ি পরিণত হয়েছিল জেলখানায়। প্রতিদিন হুগলী নদীর স্রোতে হাজার হাজার মুসলমানের লাশ ভেসে যেত আর নরপিশাচ ইংরেজরা মনোরম উদ্যানে বসে মুসলিমদের লাশ দেখে উপভোগ করত।
সুফি সাগর সামস্
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপি।


