অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা, ২৮ মার্চ: হার্ট ব্লক বা করোনারি ধমনিতে চর্বি জমে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার সমস্যা এখন শুধু প্রবীণদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই—তরুণরাও ক্রমেই এই জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই এই সমস্যা অবহেলায় হার্ট অ্যাটাকসহ প্রাণঘাতী জটিলতায় রূপ নিতে পারে।
হার্ট ব্লক কী?
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, চর্বি ও কোলেস্টেরল জমে হৃদযন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী ধমনিগুলো আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়াকে হার্ট ব্লক বলা হয়। এতে হৃদপিণ্ডে রক্ত ও অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়, যা হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম প্রধান কারণ।
ঝুঁকি বাড়াচ্ছে যেসব কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়মিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব হার্ট ব্লকের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি মানসিক চাপ ও দীর্ঘসময় বসে কাজ করার প্রবণতাও এই রোগের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করছে।
প্রতিরোধে করণীয়
হার্ট ব্লক প্রতিরোধে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এর মধ্যে রয়েছে—
- নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তোলা
- দৈনন্দিন ক্যালোরি গ্রহণ ও খরচের মধ্যে ভারসাম্য রাখা
- চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণ
- ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করা
- অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
- নিয়মিত শরীরচর্চা ও সক্রিয় জীবনযাপন বজায় রাখা
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, লাউ, রসুন, লেবু পানি ও আমলকীর মতো কিছু প্রাকৃতিক খাবার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে, যা পরোক্ষভাবে হার্টের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
সতর্কবার্তা
চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেন, শুরুতেই লক্ষণগুলো উপেক্ষা করলে পরিস্থিতি গুরুতর হতে পারে। বুক ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতন জীবনযাপনই হার্ট ব্লক প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।


