অনলাইন ডেস্ক

বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে আলাদা করে ফি আরোপের অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। দেশটির এক সংসদ সদস্যের দাবি, প্রতিটি জাহাজকে এই প্রণালী অতিক্রম করতে প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত অর্থ দিতে হচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন আলায়েদ্দিন বরৌজের্দি, যিনি দেশটির পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে পার্লামেন্ট সদস্য।
তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই অর্থ আদায় করা হচ্ছে। তার ভাষায়, “যুদ্ধ চলছে, এর খরচ আছে। তাই হরমুজ দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর কাছ থেকে পরিবহণ খরচ নেওয়া হচ্ছে—এটি আমাদের সক্ষমতার প্রমাণ।”
তবে এই ফি সব জাহাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কিনা, তা স্পষ্ট নয়। কিছু সূত্রের দাবি, নির্দিষ্ট কিছু জাহাজ থেকেই অর্থ নেওয়া হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে বরৌজের্দি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
লন্ডনভিত্তিক ইরানি সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল তার এই বক্তব্য প্রকাশ করেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও শঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানকে অর্থ প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়, তাহলে তা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন ও নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন অনেক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ।
এ অবস্থায় যেসব দেশ বা কোম্পানি এই ফি প্রদান করবে, তারা নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
প্রেক্ষাপট: সামরিক উত্তেজনা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এর যৌথ হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এর পরপরই ইরান পাল্টা হামলা শুরু করে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়।
এই সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে এবং ইতোমধ্যে প্রণালীর পশ্চিম প্রান্তে কয়েক ডজন জাহাজ আটকে থাকার খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের সরকারি অবস্থান
যদিও এই অভিযোগ নিয়ে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, শত্রু রাষ্ট্র ছাড়া অন্য কোনো দেশের জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে না।
বৈশ্বিক গুরুত্ব
বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই প্রণালী দিয়ে হয়ে থাকে। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের বাধা বা অতিরিক্ত খরচ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, ফক্স নিউজ, টিআরটি ওয়ার্ল্ড


