অনলাইন ডেস্ক

সুদানের দক্ষিণ দারফুর অঞ্চলের একটি ব্যস্ত মার্কেটে ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। হামলাকারী কারা—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। দেশজুড়ে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যে এই হামলা নতুন করে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মানবাধিকার সংস্থা নর্থ দারফুর ইমার্জেন্সি রুমস কাউন্সিল জানিয়েছে, শনিবার (২০ ডিসেম্বর) আরএসএফের নিয়ন্ত্রণাধীন মালহার শহরের আল-হারা মার্কেটে এই ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পরপরই বাজারের অসংখ্য দোকানে আগুন ধরে যায় এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। তবে সংস্থাটি হামলার দায় কার ওপর—সে বিষয়ে কোনো পক্ষের নাম উল্লেখ করেনি।
সংঘাতের পটভূমি
২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও প্যারামিলিটারি বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ)-এর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই এই সংঘাত রূপ নেয় ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।
দারফুর অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই সহিংসতা ও মানবিক সংকটের কেন্দ্রবিন্দু। চলমান লড়াইয়ের ফলে সেখানে খাদ্যসংকট চরম আকার ধারণ করেছে এবং বহু এলাকায় দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বেসামরিক মানুষের ওপর বাড়ছে হামলা
ব্যস্ত মার্কেটে ড্রোন হামলার ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিল, সুদানের সংঘাতে বেসামরিক জনগণ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বাজার, হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকাকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
যুদ্ধবিরতির একাধিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় সুদানে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। দক্ষিণ দারফুরের বাজারে এই ড্রোন হামলা সেই বাস্তবতারই আরেকটি ভয়াবহ উদাহরণ—যেখানে প্রতিদিনই সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে, আর দেশটি আরও গভীর মানবিক বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: দ্য নিউ আরব


