অনলাইন ডেস্ক

সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্টের (আইএসআইএল) বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক এক হামলায় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর আল-জাজিরার।
শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, আইএসআইএলের ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ডের’ জবাবে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সিরিয়ার নতুন সরকার এই অভিযানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানান, অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই অভিযানে আইএসআইএলের যোদ্ধা, অবকাঠামো ও অস্ত্রভাণ্ডারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। তবে এটি কোনো নতুন যুদ্ধ শুরুর ঘোষণা নয়, বরং শত্রুর বিরুদ্ধে সীমিত ও প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ।
রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় আইএসআইএলের ডজনখানেক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। হামলার সুনির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
আল-জাজিরার ওয়াশিংটন প্রতিনিধি রোসিল্যান্ড জর্ডান বলেন, ট্রাম্প ও হেগসেথের বক্তব্যে স্পষ্ট যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার ‘সমান জবাব’ দিতে চায়। যদিও সিরিয়ার নতুন সরকার এই অভিযানে সম্মতি জানিয়েছে, সিরীয় বাহিনী সরাসরি সামরিক হামলায় অংশ নিচ্ছে কি না, সে বিষয়ে এখনো পরিষ্কার কোনো তথ্য নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মতে, সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারের পতনের পর সিরিয়াকে স্থিতিশীল করতে আইএসআইএলের অবশিষ্ট নেটওয়ার্ক ও হুমকি নির্মূল করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে সিরিয়ায় প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই তারা আইএসআইএলের বিরুদ্ধে অভিযান ও স্থানীয় বাহিনীকে সহায়তা দিয়ে আসছে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে সিরিয়ার পালমিরা শহরের কাছে মার্কিন ও সিরীয় বাহিনীর একটি যৌথ কনভয়ে হামলা চালানো হয়। এতে দুই মার্কিন ন্যাশনাল গার্ড সদস্য ও এক দোভাষী নিহত হন। হামলায় আরও তিন মার্কিন সেনা আহত হন। এই ঘটনার পরই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের মাত্রা বাড়ানো হলো।


