
বাসস : চব্বিশ সালের জুলাই–আগস্টের ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানকালে সাভারের আশুলিয়ায় গুলি করে ছয়জনকে হত্যার পর তাঁদের লাশ পোড়ানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নতুন অগ্রগতি এসেছে। মামলার অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে পরিচিত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ আবজালুল হক আদালতে রাজসাক্ষী হয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে আবজালুল হক স্বীকার করেন যে তিনি সেই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং উপরের নির্দেশে হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের কাজে অংশ নিতে বাধ্য হন। জবানবন্দির একপর্যায়ে তিনি আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ঘটনার পূর্ণ বিবরণ তুলে ধরেন।
আদালত সূত্র জানায়, আবজালুল হক স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় বিক্ষোভ দমনের নামে দমন–পীড়ন চলছিল এবং আশুলিয়ার ওই ঘটনার নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন পুলিশের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা। নিহত ছয়জনের পরিচয় এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি যা করেছি, তার জন্য অনুতপ্ত। সত্য প্রকাশ করাই আমার একমাত্র দায়িত্ব।”
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, এই জবানবন্দি মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাজসাক্ষীর স্বীকারোক্তিতে ঘটনার পেছনের পরিকল্পনা, আদেশদাতাদের পরিচয় ও ঘটনার পূর্ণ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে তাঁরা মনে করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানান, আবজালুল হক চাপের মুখে বা প্রভাবিত হয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন কি না—তা যাচাই করতে তাঁরা আবেদন করবেন।
মামলাটি বর্তমানে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল জানায়, রাজসাক্ষীর জবানবন্দির ভিত্তিতে পরবর্তী শুনানির তারিখ শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।
গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশজুড়ে সংঘটিত নানা সহিংস ঘটনার মধ্যে আশুলিয়ার এই ছয়জনকে হত্যা ও লাশ পোড়ানোর ঘটনা সবচেয়ে আলোচিত ছিল। নতুন এই স্বীকারোক্তি মামলার বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


