অনলাইন ডেস্ক

ইরানের সরকার বিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি জানাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে রবিবার বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইরানি প্রবাসী জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল লস অ্যাঞ্জেলেসে কয়েক হাজার মানুষ মিছিল করেন। নিউইয়র্কেও কয়েকশ’ মানুষ সমাবেশে অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে রাখেন। সেগুলিতে লেখা ছিল—‘নতুন হলোকাস্ট’, ‘চলমান গণহত্যা’ এবং ইরানি সরকারের ‘সন্ত্রাস’ বন্ধের আহ্বান।
লস অ্যাঞ্জেলেসে অংশ নেওয়া পেরি ফারাজ বলেন, “আমার হৃদয় ভারাক্রান্ত। আমি এত ক্ষুব্ধ যে ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।” ৬২ বছর বয়সী এই পে-রোল ম্যানেজার ২০০৬ সালে ইরান ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেন। তিনি জানান, চলতি সপ্তাহেই জানতে পেরেছেন যে তার এক ছোট চাচাতো ভাই, মাত্র ১০ বছর বয়সী, চলমান বিক্ষোভে নিহত হয়েছে।
ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানের অর্থনৈতিক দুরবস্থাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত সরকার বিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া কঠোর নিরাপত্তা অভিযানের কারণে আন্দোলন অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়লেও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এটিকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে। নরওয়ে ভিত্তিক ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত ৩ হাজার ৪২৮ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য যাচাই করেছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৬৫ বছর বয়সী আইনজীবী আলি পারভানেহ বলেন, “জনগণের ওপর এই নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ভীষণভাবে কষ্টদায়ক।” তিনি এবং অন্যান্য বিক্ষোভকারী ‘মেক ইরান গ্রেট এগেইন’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন এবং ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) লক্ষ্য করে মার্কিন হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।
কিছু অংশগ্রহণকারী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার দাবিও তুলেছেন। আর্থিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া নিয়ে নানা মিশ্র বার্তা পাওয়া গেছে।
একই সময়ে, প্রবাসী ইরানিরা সাবেক শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির ছেলে রেজা পাহলভির সমর্থনও প্রকাশ করেছেন। তবে ইরানের ভেতরে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব সীমিত। লস অ্যাঞ্জেলেসের ‘তেহরানজেলেস’ নামে পরিচিত এলাকায় একজন রেস্তোরাঁ মালিক বলেন, প্রবাসীদের উচিত ইরানিদের পাশে দাঁড়ানো, তবে ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার তাদেরই থাকা উচিত।
সূত্র: আল আরাবিয়া, ফ্রান্স২৪


