আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইউনাইটেড নেশন্স-এ চিঠি দিয়ে সামরিক আগ্রাসনের শিকার হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। পরমাণু চুক্তি নিয়ে সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার প্রেক্ষাপটে Donald Trump-এর বক্তব্যকে ‘সামরিক আগ্রাসনের প্রকৃত ঝুঁকির ইঙ্গিত’ বলে উল্লেখ করেছে তেহরান।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘ মহাসচিব Antonio Guterres-কে লেখা চিঠিতে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী দূত জানান, ইরান যুদ্ধ চায় না; তবে তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ শক্তি প্রয়োগ বা হামলা হলে ‘সিদ্ধান্তমূলক’ জবাব দেওয়া হবে।
কূটনীতি বনাম হুমকি
চিঠিতে বলা হয়, ইরান এখনও কূটনৈতিক সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যে কোনো ‘অস্পষ্টতা’ দূর করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে অবৈধ শক্তি প্রয়োগের হুমকি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
তবে সতর্কবার্তায় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে—সামরিক হামলা হলে আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদ লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
ট্রাম্পের ১০ দিনের ইঙ্গিত
ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের উদ্বোধনী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, পরমাণু চুক্তি না হলে “খারাপ কিছু” ঘটতে পারে। তিনি দাবি করেন, গত বছর ইরানের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা না চালালে তেহরানের হুমকি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত করত।
তার ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো এখন আরও এক ধাপ এগোতে হবে। না–ও হতে পারে। হয়তো একটি চুক্তি হবে। আগামী ১০ দিনের মধ্যেই সম্ভবত তা জানা যাবে।”
ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-র কড়া সতর্কবার্তার পরপরই। নেতানিয়াহু বলেন, “যদি আয়াতুল্লাহরা ভুল করে আমাদের ওপর আক্রমণ করে, তাহলে এমন জবাব দেওয়া হবে যা তারা কল্পনাও করতে পারবে না।”
আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণ
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে সন্দেহ, আঞ্চলিক মিত্রদের ভূমিকা এবং সামরিক উপস্থিতি—সব মিলিয়ে কূটনৈতিক পথ কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ১০ দিন পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কূটনৈতিক অগ্রগতি না হলে উত্তেজনা আরও বাড়ার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তথ্যসূত্র: TRT World


