অনলাইন ডেস্ক

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে আটক করার পর এবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলোর ওপর চাপ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মানতে সহায়তা না করলে কাবেলোকে ‘টার্গেট লিস্টের শীর্ষে’ রাখার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। এ ঘটনায় ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে একটি কড়া বার্তা পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তিনি যদি অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো বাস্তবায়নে সহযোগিতা না করেন এবং দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হন, তবে তাকে লক্ষ্যবস্তু তালিকার শীর্ষে রাখা হতে পারে।
রয়টার্সের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এমন তিনটি অজ্ঞাত সূত্র। সূত্রগুলোর একটির ভাষ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ কাবেলোর হাতেই রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অপহৃত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের একজন, যাদের ওপর ভর করে অন্তর্বর্তী সময়ে দেশটির স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে কাবেলো ও অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানিয়েছে, কাবেলো চাইলে ভেনেজুয়েলার স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারেন—এ আশঙ্কা থেকেই একদিকে তার সহযোগিতা নিশ্চিত করতে চাপ দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে কীভাবে ধীরে ধীরে তাকে ক্ষমতার বাইরে ঠেলে নির্বাসনে পাঠানো যায়, সেটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
এর মধ্যেই ভেনেজুয়েলা থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে একটি সমঝোতার আওতায় প্রথম ধাপে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল ‘উচ্চমানের কিন্তু নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত’ অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যে এই তেল বিক্রি করা হবে এবং প্রাপ্ত অর্থ যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। তিনি আরও জানান, স্টোরেজ জাহাজে করে তেল সরাসরি মার্কিন বন্দরে আনা হবে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে তেল পাঠানোর বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে এবং প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই ঘটনাপ্রবাহ নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা


