অনলাইন ডেস্ক

পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার স্পষ্ট করেছেন, ইরানের ওপর সামরিক হামলায় ব্রিটেনের কোনও সরাসরি অংশগ্রহণ নেই।
স্টারমার জানান, মার্কিন বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রগুলিতে হামলার জন্য কিছু ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করছে, তবে তা শুধুমাত্র ‘আত্মরক্ষামূলক’ উদ্দেশ্যে সীমিত পরিসরে অনুমোদিত। তিনি আরও বলেন, “ইরাক যুদ্ধের ভুল আমাদের স্মরণে আছে। আমরা তা থেকে শিক্ষা নিয়েছি। ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় ব্রিটেন জড়িত ছিল না এবং ভবিষ্যতেও আমরা আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করবো না।”
প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালে ইরাকের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ব্রিটেন একসঙ্গে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল, যা পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছিল। সেই সময়ে সমালোচনা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের পদত্যাগের অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হয়।
স্টারমার আরও বলেন, ব্রিটেন পশ্চিম এশিয়ায় আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চালাবে। ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান ইতোমধ্যেই পশ্চিম এশিয়ার আকাশে অবস্থান করছে এবং বিভিন্ন হামলা ঠেকাতে তারা কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন, ব্রিটেনের সামরিক উপস্থিতি আক্রমণাত্মক উদ্দেশ্যে নয়।
গত শনিবার মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর ইরান পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে। ইরান এমন কিছু দেশে হামলা চালাচ্ছে, যেগুলি তাদের ওপর সরাসরি হামলা করেনি। স্টারমার জানান, এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ায় অন্তত দুই লাখ ব্রিটিশ নাগরিক ঝুঁকিতে রয়েছেন। তিনি বিশেষভাবে বাহরিনের একটি ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ইরানের হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন, সেনাকর্মীরা অল্পের জন্য আক্রমণ থেকে রেহাই পেয়েছেন।
স্টারমার বলেন, “সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতেও ইরান হামলা থেকে বিরত থাকবে না। তারা আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকছি না, কারণ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানই অঞ্চল ও বিশ্ব শান্তির জন্য সঠিক পথ।”
সূত্র: আনন্দবাজার


