আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতায় কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্ক-এর মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে পরোক্ষভাবে বার্তা আদান-প্রদান চলছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তিন দেশ সক্রিয়ভাবে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনে কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পৃথকভাবে মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোয় সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে।
তবে ওয়াশিংটনের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সরাসরি যোগাযোগ হয়নি। তাদের মতে, আঞ্চলিক কিছু দেশ উত্তেজনা কমাতে কাজ করলেও যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত কারণে অবস্থান পরিবর্তন করছে।
এর আগে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ইরানও জ্বালানি স্থাপনায় হামলার হুমকি দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
চলমান এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। তেলের দাম বৃদ্ধি ও শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
রবিবার মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, পাকিস্তান, তুরস্ক ও কাতারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে জোর দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি সংলাপ না হলেও এ ধরনের পরোক্ষ কূটনৈতিক উদ্যোগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং বৃহত্তর সংঘাত এড়ানোর পথ তৈরি করতে পারে।
সূত্র: নিউজ১৮


