অনলাইন ডেস্ক

কলকাতা: বুধবার সন্ধ্যায় কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমি-ফাইনাল ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ৯ উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করেছে। ম্যাচে শিরোনাম হয়ে উঠেছে কিউই ওপেনার ফিন অ্যালেন-এর ইতিহাসগড়া সেঞ্চুরি।
দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৬৯ রান করে। জবাবে নিউজিল্যান্ড মাত্র ১২.৫ ওভারে লক্ষ্য পূর্ণ করে। অ্যালেন মাত্র ৩৩ বলে ১০ চারের সঙ্গে ৮টি ছক্কা মেরে দ্রুততম সেঞ্চুরি করেছেন, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড। আগের দ্রুততম সেঞ্চুরি ছিল ক্রিস গেইলের ৪৭ বলে।
ফিন অ্যালেন ও টিম সেইফার্টের ধুন্ধুমার ওপেনিং
ম্যাচের শুরুতে নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার ফিন অ্যালেন এবং টিম সেইফার্ট পাওয়ার প্লেতে দুর্দান্ত ব্যাটিং শুরু করেন। প্রথম ছয় ওভারে ৮৪ রান তুলে কিউইরা রানের গতি ঠিক করে দেন। সেইফার্ট মাত্র ২৮ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন এবং পরের ওভারে অ্যালেনের ঝড়ে রেকর্ডভঙ্গ হয়।
সেইফার্ট ৩৩ বলে ৫৮ রান করে আউট হন, এরপর অ্যালেন দলের জয়ের দায়িত্ব একাই নেন। নবম ও দশম ওভারে কেশব মহারাজ ও রাচিন রবীন্দ্রের বল মোকাবেলা করে তিনি দলের প্রয়োজনীয় রান তুলে জয়ের ব্যবধান বাড়ান।
দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুতে ধাক্কা
টস হেরে ব্যাট করা দক্ষিণ আফ্রিকা ভালো শুরু পায়নি। দ্বিতীয় ওভারে কুইন্টন ডি কক (৮) ও রায়ান রিকেল্টন (০) দ্রুত আউট হয়ে যান। পরে এইডেন মার্করাম ও দেওয়াল্ড ব্রেভিস দলের স্কোর এগিয়ে নেন, তবে যথেষ্ট গতি আনতে পারেননি। ৪৩ রানের জুটি গড়ে তারা ৩৫ বল খেলে।
দক্ষিণ আফ্রিকার শেষ ওভারগুলোতে মার্কো ইয়ানসেন এবং ট্রিস্টান স্টাবস দলের জন্য কিছুটা সংগ্রাম করেন। ইয়ানসেন অপরাজিত থেকে ২৯ বলে ৫৫ রান করেন, কিন্তু তা নিউজিল্যান্ডের দারুণ ব্যাটিংয়ের মুখে যথেষ্ট হয়নি।
বোলিংয়ে কিউইদের দাপট
নিউজিল্যান্ডের হয়ে ম্যাট হেনরি, রাচিন রবীন্দ্র এবং কল ম্যাকঙ্কি দুইটি করে উইকেট নেন। নিউজিল্যান্ডের চূড়ান্ত জয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই বোলিং আক্রমণ।
ফলাফল
নিউজিল্যান্ড: ১৬৯/১ (১২.৫ ওভার)
দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৬৯/৮ (২০ ওভার)
ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়: ফিন অ্যালেন (নিউজিল্যান্ড)
নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠল, যেখানে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে শিরোপার লড়াই। এই জয় কিউইদের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, বিশেষ করে অ্যালেনের অভাবনীয় ব্যাটিং এবং ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার কারণে।


