
২০১৯ সলে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুকার্ণর তৃতীয় কন্যা সুকামাওতি সুকার্ণ ইসলাম ধর্ম পরিত্যাগ করে হিন্দু সনাতন ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এই ধর্ম বদলের বিষয়টি হিন্দু সনাতন শাস্ত্রের সাম্প্রদায়িক সম্প্রদায়কে আলোড়িত করেছে। তারা ভীষণভাবে উদ্বেলিত। হিন্দু সনাতন শাস্ত্রের একটি সম্প্রদায় বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচার করেছে। পক্ষান্তরে মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রদায় ভীষণভাবে দুঃখিত এবং ক্ষুব্ধ। কিন্তু সুকামাওতির ধর্ম বদলের বিষয়ে হিন্দু সনাতন এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের ধার্মিক সম্প্রদায়েম মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেনি। কারণ, ধার্মিক সম্প্রদায়ের ধর্ম বিশ্বাস আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রদায়ের ধর্ম বিশ্বাস এক নয়। দুপক্ষের ধর্ম বিশ্বাসের মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক।
ধর্ম বদলের করার মধ্যে বিশেষ কোনো মাহাত্ম নেই। কারণ, ধর্মে-ধর্মে কোনো পার্থক্য নেই। পার্থক্য হলো, বিভিন্ন ভাষা, মন্ত্র ও শব্দ উচ্চারণ, বিভিন্ন অনুশীলন, অঙ্গভঙ্গি, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, ধর্মীয় সংস্কৃতি, ইত্যাদি। তবে এসবের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। এসব অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মানুষ একই স্রষ্টার উপসনা করে। নাম বিভিন্ন, কিন্তু স্রষ্টা একজনই। বিভিন্ন নামের বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একই স্রষ্টার উপাসনা করে। ইসলাম একত্ববাদী একটি ধর্ম-বিশ্বাসী ধর্ম। কুরআন মজিদ সনাতনী হিন্দু ধর্মকে সাবেয়ীন বা একত্ববাদী ধর্ম বলে আখ্যায়িত করেছে। সুতরাং ধর্ম বদলের মধ্যে বিশেষ কোনো মাহাত্ম্য নেই।
ধারণা করা যায় যে, প্রেসিডেন্ট সুকার্ণর কন্যা সুকামাওতির ইসলামের প্রকৃত ধর্মীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা নিতান্তই কম। ইসলামের আত্মশুদ্ধির অনুশীলনীয় বিষয় সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তিনি ইসলামের প্রচলিত সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদী কর্মকান্ডকেই একমাত্র ইসলাম বলে ধারণা করেছেন। তিনি ইসলামের যিহাদে আকবর বা আত্ম-নিয়ন্ত্রণ, আত্ম-উন্নয়ন, আধ্যাত্মিকতা কিংবা আল্লাহর গুণসত্ত্বায় সত্তায় সত্ত্ববান হওয়ার ইসলামি দর্শন সম্পর্কে ধারনা নেই। আধুনিক ইসলামি শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে সুকামাওতির কোনো ধারণা নেই। প্রচলিত আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার জনক ইসলাম। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ আইন প্রণেতা হযরত মুহম্মদ (স)। সুকামাওতির থাকবে কিভাবে অধিকাংশ মুসলমানরাও জানেন না যে, ইসলামি শাসনব্যবস্থা কী?
মহানবী রসুলে করিম (স) পৃথিবীর প্রথম নির্বাচিত মহামান্য রাষ্ট্রপতি ছিলেন। ইয়াহুদি, খ্রিস্টান, মুসলমান ও পৌত্তলিক জনগোষ্ঠী ভোট দিয়ে তাঁকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেছিল। তিনি শুধু মুসলমানের রাষ্ট্রপতি ছিলেন না। তিনি ছিলেন, মদিনার সমগ্র জনগোষ্ঠীর রাষ্ট্রপতি। হযরত মুহম্মদ (স) জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার জনক। মদিনা রাষ্ট্র গঠন হওয়ার পূর্বে জনগণের ভোটে নির্বাচিত কোনো রাষ্ট্রীয় সরকার ব্যবস্থা পৃথিবীতে ছিল না। ইসলামের এসব বিষয় সম্পর্কে সুকামাওতির ধারণা না থাকার কারণে হয়তো তিনি ইসলাম পরিত্যাগ করে হিন্দু সনাতন ধর্ম গ্রহণ করেছেন।
সুফি সাগর সামস্
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপি।


