অনলাইন ডেস্ক

গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস শহরে প্রচণ্ড শীতের কারণে আট মাসের এক ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। টানা দুই বছর ধরে ইসরায়েলি হামলায় বিপর্যস্ত এ এলাকায় এবার তীব্র শীত আরও ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করেছে। যুদ্ধের কারণে ঘরবাড়িহারা লাখো ফিলিস্তিনি ইতিমধ্যে খোলা আকাশের নিচে বা দুর্বল, অস্থায়ী তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছেন—যেখানে ঠান্ডা ও বৃষ্টির প্রতিরোধের কোনো ব্যবস্থাই নেই।
শিশুর মৃত্যুর ঘটনা
বৃহস্পতিবার রাহাফ আবু জাজার নামের আট মাস বয়সী শিশুটি প্রচণ্ড ঠান্ডায় মারা যায়। পরিবারটি খান ইউনিসে এক অস্থায়ী তাঁবুতে অবস্থান করছিল। রাতভর টানা ঠান্ডা হাওয়া ও শীতে কাঁপতে থাকা তাঁবুটি শিশুটির মৃত্যু ঠেকাতে পারেনি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রধান মুনির আল-বুরশ শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিম্ন তাপমাত্রা এবং স্যাঁতসেঁতে তাঁবু শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সতর্কবার্তা
মুনির আল-বুরশ আশঙ্কা প্রকাশ করেন—
-
বৃষ্টিতে ভেজা তাঁবুর ভেতরে আরও শিশু মারা যেতে পারে।
-
ঠান্ডায় বৃদ্ধ ও রোগীদের মৃত্যুঝুঁকিও বাড়ছে।
-
তীব্র শীতের প্রভাবে কাঁপুনি, শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাওয়া, শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে।
-
জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহের সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করছে।
বাস্তুচ্যুত মানুষের দুরবস্থা
গাজার দক্ষিণাংশে বর্তমানে লাখো বাস্তুচ্যুত মানুষ কেবল ত্রিপলের তৈরি তাঁবু, প্লাস্টিকের শিট বা ভাঙা কাঠামোর ওপর নির্ভর করে দিন কাটাচ্ছেন।
-
খাবার, গরম কাপড় ও কম্বলের চরম সংকট চলছে।
-
শিশুদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, পুষ্টি ও চিকিৎসাসেবা প্রায় নেই বললেই চলে।
-
তাপমাত্রা দ্রুত নিচে নেমে যাওয়ায় শিশুদের মধ্যে সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের রোগ বেড়েছে।
মানবিক পরিস্থিতির অবনতি
দুই বছর ধরে চলমান সংঘাতের মধ্যে শীত আবারও এক নতুন সংকট তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করছে—প্রয়োজনীয় ত্রাণ প্রবেশে বাধা, চিকিৎসা অবকাঠামোর ধ্বংস এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর নাজুক অবস্থার কারণে আসন্ন দিনগুলো আরও কঠিন হতে পারে।
গাজায় রাহাফ আবু জাজারের মৃত্যু কেবল একটি শিশুর প্রাণহানি নয়—এটি বর্তমান মানবিক বিপর্যয়ের প্রতীক। শীত, অভাব, এবং চলমান হামলা মিলিয়ে লাখো মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। অবিলম্বে পর্যাপ্ত আশ্রয়, খাদ্য, গরম পোশাক, চিকিৎসাসামগ্রী এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা না পৌঁছালে আরও মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।


